শিরোনাম

জুমার দিনে কখন দোয়া কবুল হয়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
জুমার দিনে কখন দোয়া কবুল হয়
দোয়া। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে প্রয়োজন ও চাহিদার কোনো শেষ নেই। জীবনের নানা প্রয়োজন পূরণ করতে মানুষ সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে। তবে একজন মুমিনের বিশ্বাস হলো—চেষ্টা করার পাশাপাশি নিজের প্রয়োজন, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে হয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া শোনেন এবং তাঁর হিকমত অনুযায়ী বান্দার প্রয়োজন পূরণ করেন।

তাই একজন ঈমানদার সবসময়ই চায়, তার প্রার্থনা যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।

বিশেষ করে শুক্রবার বা জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যে সময়ে কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন—এ বিষয়ে একাধিক হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়।

তবে সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন—এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে বিভিন্ন সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসগুলো তুলে ধরা হলো।

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন,

‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাস‍ুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। ’

(বুখারি)

অন্য একটি বর্ণনায় এই বিশেষ সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে—

আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত।

(মুসলিম, মিশকাত)

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন,

‘ইমাম মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত। ’

(মুসলিম, ইবনু খুজাইমা, বয়হাকি)

আসরের পরের সময়ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ

জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে।

রাসুল (সা.) থেকে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন,

জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর ক‍াছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো।

(আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (২/৩৯৪)

ইমাম আহমদ (রহ.)-ও একই কথা বলেছেন। (তিরমিজির ২য় খণ্ডের ৩৬০ নং পৃষ্ঠায় কথাটি উল্লেখ আছে)

বিশেষ সময়টি নিয়ে আরও যেসব মত রয়েছে

জুমার দিনে দোয়া কবুলের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিভিন্ন আলেম ও বর্ণনায় আরও কয়েকটি মত পাওয়া যায়। যেমন—

  1. জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর আমিন বলার সময়।
  2. আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে।
  3. মুয়াজ্জিন আজান দেয়ার সময়।
  4. জুমার দিন সূর্য ঢলে পড়ার সময়।
  5. ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর সময়।
  6. উভয় খুতবার মধ্যবর্তী সময়।
  7. জুমার দিন ফজরের আজানের সময়।
  8. প্রত্যেক জুমায় আলাদা আলাদা সময়ে।

তাহলে দোয়া কবুলের সময় কোনটি?

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে একাধিক মত থাকলেও মূল বিষয়টি হলো—জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় অবশ্যই রয়েছে, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন।

তাই কোনো একটি সময়কে নিশ্চিত ধরে নিয়ে শুধু সেই সময়েই দোয়া করার পরিবর্তে পুরো জুমার দিনটিই ইবাদত, জিকির ও দোয়ায় কাটানোর চেষ্টা করা উচিত।

বিশেষ করে জুমার নামাজের সময় এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে গুরুত্ব দিয়ে বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে।

দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি পুরোপুরি নির্দিষ্ট না করার মধ্যেও বান্দার জন্য একটি শিক্ষা রয়েছে—যেন সে জুমার দিন আল্লাহর ইবাদত ও দোয়ায় বেশি বেশি মশগুল থাকে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের ফজিলত ও বরকত অর্জনের এবং বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমাদের সব বৈধ দোয়া কবুল করুন।

/এবি/