শিরোনাম

এক মসজিদে একাধিকবার জুমার নামাজ পড়া যাবে কি না

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
এক মসজিদে একাধিকবার জুমার নামাজ পড়া যাবে কি না
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায়। ছবি: বিবিসি

ইসলামী শরিয়তে শুক্রবার বা জুমার দিনের ফজিলত অনেক। মুসলমানরা সপ্তাহের এই দিনটিতে একত্রে সমবেত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করেন।নামাজের আগে খুতবার মাধ্যমে আল্লাহ, ইসলাম ও মানবজীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা শোনা হয়। যা ঈমানকে আরও মজবুত করে।

ইসলামে একজন মুমিনের পুরো জীবনই ইবাদত। যদিও ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সময় বাধ্যতামূলক নয়, তবুও কিছু সময় ও দিনকে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শুক্রবার তেমনই একটি দিন।

পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ। হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংঘটিত সগীরা গুনাহগুলো ক্ষমা করা হয়, যদি কেউ কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়।

তাই মুসলমানদের জন্য দুনিয়াবি ব্যস্ততার অজুহাতে জুমার নামাজ অবহেলা করা কাম্য নয়।

এক মসজিদে একাধিকবার জুমার নামাজ পড়া যাবে কি না?

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে একই মসজিদে একাধিকবার জুমার নামাজ আদায় করা মাকরূহ। তাই এই পদ্ধতিটি বর্জন করা আবশ্যক।

যদি মসজিদে সব মানুষের জায়গা না হয় এবং দ্বিতীয়বার জামাত করার প্রয়োজন দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে বিকল্প হলো- অন্য কোনো বড় এবং খোলা ময়দানে নামাজ আদায় করা। পুরো জমিনকে মহান আল্লাহ তাআলা ইবাদতের স্থান ও পবিত্র হিসেবে তৈরি করেছেন। তাই যেকোনো স্থানে নামাজ আদায় করা যায়।

তবে যদি অনেক মানুষ সমবেত হওয়ার মতো বড় কোনো জায়গা কোনোভাবেই পাওয়া না যায়, তবে অপারগতার কারণে একাধিক জামাত করা যেতে পারে। এছাড়া যদি অন্য এলাকার লোক দ্বিতীয় জামাত করতে চায় বা মুসাফির হয়, তাদের জন্যও বৈধ আছে।

শরীয়তের নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ইমাম ও মুয়াজ্জিন রয়েছেন এবং যেখানকার নির্দিষ্ট মুসল্লি রয়েছে এমন মসজিদে এক নামাজের দুটি জামাত করাকে ‘মাকরূহ’ গণ্য করা হয়েছে।

হজরত আব্দুর রহমান বিন মুজবার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি সালেম ইবনে আব্দুল্লাহর সঙ্গে এমন সময় জুমার মসজিদে প্রবেশ করলাম যখন তাদের (মুসল্লি) জামাত শেষ। তারা বললেন, তোমরা কি জামাত করবে না? সালেম বললেন, কোনও মসজিদে এক নামাজের দুই জামাত নেই।’ (ইলাওস সুনান ৪/২৮০)।

সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমলে এমন ছিল, যখন তাদের মসজিদে আসতে দেরি হতো এবং দেখতেন জামাত শেষ হয়ে গেছে, তখন তারা অন্য কোনো মসজিদে গিয়ে জামাতে শরিক হতেন। অথবা একাকী নামাজ আদায় করে নিতেন। কিন্তু ওই একই মসজিদে দ্বিতীয়বার জামাত করতেন না।

এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই দলের মধ্যে আপস-মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখলেন জামাত শেষ হয়ে গেছে। তখন তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে (ঘরে) জামাত আদায় করেন।

এ বিষয়ে ফকিহগণ বলেন, যদি মসজিদে ফরজ নামাজের দ্বিতীয় জামাত জায়েজ হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বৈধতা বোঝানোর জন্য সেখানেই দ্বিতীয়বার জামাত করতেন।

/জেএইচ/