শিরোনাম

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কড়াকড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কড়াকড়ি
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সেইসঙ্গে বেড়েছে চাহিদাও। এমতাবস্থায় এই চাল রপ্তানিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। এজন্য আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কী পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে, সেই তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশনার ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রপ্তানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।

এর আগে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।

১৩ মে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানি করেছে। এতে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণেই রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিলমালিক কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এজন্য মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/জেএইচ/