এমপি আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় বিএনপি

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
এমপি আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় বিএনপি
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ

নাটোরের এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছে নাটোর জেলা বিএনপি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিনভর বৈঠক শেষে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ভিডিওগুলো জেলা বিএনপির নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলা আহ্বায়ক কমিটি কোনো যুগ্ম আহ্বায়ককে সরাসরি বহিষ্কার করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করতে হয়।

আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আব্দুল আজিজের বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও ভিডিওর বিষয়গুলো লিখিত ও মৌখিকভাবে কেন্দ্রকে জানানো হবে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে।

আব্দুল আজিজ নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে তাঁকে খালি গায়ে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আব্দুল আজিজ এগুলোকে বানোয়াট দাবি করে বলেছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব ছড়ানো হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যাকাণ্ড এবং এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মধ্যেই ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে।

শাকিল হত্যার বিচার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ জেলা বিএনপি

শুক্রবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন বিএনপির নেতারা। এ বিষয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান আসাদ।

তিনি বলেন, শাকিল হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা পারিবারিক অবস্থান বিবেচ্য নয়। অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় কোনো ধরনের পক্ষপাতের সুযোগ নেই।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে শাকিল আহমেদের ওপর হামলা হয়। হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে পালানোর সময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার পিজি হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর গত সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

সোমবার রাতে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরদিন তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

শাকিলের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে গুরুদাসপুরে আনা হয়। বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল আজিজ ক্ষোভের মুখে পড়েন। এ সময় শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিলে উপস্থিত লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

/এমআর/