সিইসি ও ইসি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের

সিইসি ও ইসি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সিইসি ও ইসি সচিব মূলত অনিয়মকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তারা দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করেননি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট।
একই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনও নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেছেন। ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তড়িঘড়ি করে কাগজে নিজেদের পরিচয় লিখে পকেটে রেখেছিলেন। তারা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনে আগাম ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষ্য, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা না করেই পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা গাড়ি থামান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এত অভিযোগের পরও ইসি সচিব অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার এমন বক্তব্য নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।
তবে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না বলে জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও তথ্য আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানানো হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হবে। সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে দেশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত সংসদের মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান চায়। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন রয়েছে। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এ জন্য আলাদা কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
লংমার্চে দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত করার পরিকল্পনা
আগামীকাল শনিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও খুলনা অতিক্রম করে রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে বহরটি। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এ যাত্রায় ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, শুরুতে বহরে ৬৫০ থেকে ৭০০টি গাড়ি থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে খুলনায় পৌঁছানোর সময় সংখ্যাটি প্রায় এক হাজারে দাঁড়াবে। এরপর যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হবে। কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, যাত্রাপথে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন স্লোগান দেওয়া যাবে না। কোথাও বাধা বা উসকানির মুখে পড়লেও গাড়ি থেকে না নেমে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়া এবং পরে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ ও সেলিম উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সিইসি ও ইসি সচিব মূলত অনিয়মকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তারা দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করেননি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট।
একই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনও নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেছেন। ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তড়িঘড়ি করে কাগজে নিজেদের পরিচয় লিখে পকেটে রেখেছিলেন। তারা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনে আগাম ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষ্য, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা না করেই পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা গাড়ি থামান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এত অভিযোগের পরও ইসি সচিব অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার এমন বক্তব্য নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।
তবে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না বলে জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও তথ্য আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানানো হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হবে। সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে দেশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত সংসদের মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান চায়। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন রয়েছে। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এ জন্য আলাদা কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
লংমার্চে দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত করার পরিকল্পনা
আগামীকাল শনিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও খুলনা অতিক্রম করে রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে বহরটি। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এ যাত্রায় ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, শুরুতে বহরে ৬৫০ থেকে ৭০০টি গাড়ি থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে খুলনায় পৌঁছানোর সময় সংখ্যাটি প্রায় এক হাজারে দাঁড়াবে। এরপর যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হবে। কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, যাত্রাপথে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন স্লোগান দেওয়া যাবে না। কোথাও বাধা বা উসকানির মুখে পড়লেও গাড়ি থেকে না নেমে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়া এবং পরে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ ও সেলিম উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি ও ইসি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সিইসি ও ইসি সচিব মূলত অনিয়মকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তারা দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করেননি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট।
একই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনও নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেছেন। ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তড়িঘড়ি করে কাগজে নিজেদের পরিচয় লিখে পকেটে রেখেছিলেন। তারা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনে আগাম ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষ্য, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা না করেই পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা গাড়ি থামান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এত অভিযোগের পরও ইসি সচিব অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার এমন বক্তব্য নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।
তবে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না বলে জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও তথ্য আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানানো হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হবে। সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে দেশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত সংসদের মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান চায়। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন রয়েছে। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এ জন্য আলাদা কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
লংমার্চে দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত করার পরিকল্পনা
আগামীকাল শনিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও খুলনা অতিক্রম করে রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে বহরটি। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এ যাত্রায় ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, শুরুতে বহরে ৬৫০ থেকে ৭০০টি গাড়ি থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে খুলনায় পৌঁছানোর সময় সংখ্যাটি প্রায় এক হাজারে দাঁড়াবে। এরপর যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হবে। কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, যাত্রাপথে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন স্লোগান দেওয়া যাবে না। কোথাও বাধা বা উসকানির মুখে পড়লেও গাড়ি থেকে না নেমে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়া এবং পরে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ ও সেলিম উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


-CznNewsLab-7b341c.jpg)





