বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবিতে ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবিতে ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ
সমাবেশের মঞ্চে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নেতারা। আজ শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলসহ সব অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। দাবি আদায়ে দুই মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করার উদ্যোগ এবং সুন্দরবন ধ্বংস করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করার উদ্যোগ বন্ধের আহ্বান জানান নেতারা।

জোটের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী দুই মাস জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা ও গণসংযোগ। এর মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)-এর প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মাহবুব) নেতা হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী ও জাতীয় গণফ্রন্টের রজত হুদা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি দেশের অর্থনীতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাদের অভিযোগ, জনমত উপেক্ষা করে বর্তমান বিএনপি সরকার চুক্তিটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১-দলীয় জোটও চুক্তির বিরোধিতা না করে কার্যত এতে সমর্থন দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন বক্তারা। তাদের ভাষ্য, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বন্দরের পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান উঠলেও সরকার এখন ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাদের অভিযোগ, এক বিদেশি শক্তির প্রভাব থেকে বেরিয়ে অন্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে দেশ। মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দিল্লিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে এর ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন তারা।

নেতারা বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন এবং সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী। এসব পরিকল্পনা বন্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করার উদ্যোগ থেকেও সরকারকে সরে আসতে হবে। দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে প্রবীণ বামপন্থী নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান, খালেকুজ্জামান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মো. শাহ আলম, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সিপিবির রুহিন হোসেন (প্রিন্স) ও কবি মোহন রায়হানসহ বিভিন্ন ছাত্র, যুব, নারী, শ্রমিক, কৃষক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে লিখিত ঘোষণা ও আন্দোলনের কর্মসূচি পাঠ করেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।

এর আগে সমাবেশস্থলে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা। আবৃত্তি করেন হাসান ফখরী।

/এমআর/