শিরোনাম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত নতুন সরকার ও জাতীয় সংসদ পেতে যাচ্ছে দেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপিরা শপথ নেবেন। বিকাল ৪টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং পরে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। আর সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসন, জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা ৮টি আসন পেয়েছে। দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে এবং এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট হয়নি। একই দিনে জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়। ফলে নবনির্বাচিত এমপিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকালবেলার এমপিদের শপথে অতিথি না থাকলেও বিকালের মন্ত্রিসভার শপথে দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার অতিথি অংশ নেবেন। দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, ভিভিআইপি জোন ও গণমাধ্যম কর্নার প্রস্তুত করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে সংসদ ভবন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করছে। এ নিয়ে বিএনপি ষষ্ঠবারের মতো দেশ পরিচালনার সুযোগ পেল। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনা করেছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, একসঙ্গে ১০০ জন করে তিন ধাপে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ শেষে সদস্যরা নির্ধারিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। এরপর বিএনপি সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে জামায়াতের সংসদীয় দলে ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করা হবে।

বিকালের শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে সংসদ ভবনের উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করবে। জানা গেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হতে পারে।

এদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায় ৩৭টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তবে প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বাইরে লাইভ স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কিছু সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

/জেএইচ/