সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন, বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক নেত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন, বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক নেত্রী
এন রায় রাজা

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। সরকার গঠনের পরপরই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসের মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ঈদের আগেই নির্বাচনের সব কার্যক্রম শেষ করতে চায় তারা। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে।
এ ছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। এখনো দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে, যা চূড়ান্ত হিসাবকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে।
মনোনয়ন পেতে পারেন যারা
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে বিএনপির নারী নেত্রীরা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে অধিকাংশই মনোনয়ন পাননি। তাঁদের অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেত্রী দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে আলোচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি। সেই সিদ্ধান্ত জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
যারা আলোচনায় আছেন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ।
মনোনয়ন পেতে আরও চেষ্টা চালাচ্ছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দল নেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগর। এ ছাড়া মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বনির্ভর সম্পাদক আসমা আজিজ।
চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন দলটির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজের স্ত্রী সুলতানা পারভীন।
নেত্রীদের প্রত্যাশা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, দলের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকাকালে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ত্যাগের মূল্যায়ন হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে পরাজিত হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।
বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়টি নিশ্চয়ই নেতৃত্ব বিবেচনায় নেবে।
চট্টগ্রাম নগর মহিলা দলের সহসভাপতি জেসমিনা খানম বলেন, টানা ১৭ বছর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দল ছাড়েননি।
দলীয় অবস্থান
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে বিএনপি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘বিএনপিতে অসংখ্য যোগ্য নারী নেত্রী রয়েছেন। সব দিক বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নির্ধারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাধিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের ভূমিকা, সংগঠনিক দায়িত্ব পালন, দমন-পীড়নের মুখেও সক্রিয় থাকা, নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং নারী ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা—এই পাঁচটি বিষয়ই এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে উঠছে।
এই বিবেচনায় মহিলা দলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল নেত্রী, বিভাগীয় ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠক এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পাওয়া নারী প্রার্থীরা মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে যাঁরা গত দেড় দশকে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন কেবল ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়; বরং এটি বিএনপির নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংসদে দলটির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। সরকার গঠনের পরপরই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসের মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ঈদের আগেই নির্বাচনের সব কার্যক্রম শেষ করতে চায় তারা। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে।
এ ছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। এখনো দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে, যা চূড়ান্ত হিসাবকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে।
মনোনয়ন পেতে পারেন যারা
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে বিএনপির নারী নেত্রীরা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে অধিকাংশই মনোনয়ন পাননি। তাঁদের অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেত্রী দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে আলোচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি। সেই সিদ্ধান্ত জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
যারা আলোচনায় আছেন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ।
মনোনয়ন পেতে আরও চেষ্টা চালাচ্ছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দল নেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগর। এ ছাড়া মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বনির্ভর সম্পাদক আসমা আজিজ।
চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন দলটির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজের স্ত্রী সুলতানা পারভীন।
নেত্রীদের প্রত্যাশা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, দলের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকাকালে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ত্যাগের মূল্যায়ন হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে পরাজিত হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।
বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়টি নিশ্চয়ই নেতৃত্ব বিবেচনায় নেবে।
চট্টগ্রাম নগর মহিলা দলের সহসভাপতি জেসমিনা খানম বলেন, টানা ১৭ বছর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দল ছাড়েননি।
দলীয় অবস্থান
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে বিএনপি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘বিএনপিতে অসংখ্য যোগ্য নারী নেত্রী রয়েছেন। সব দিক বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নির্ধারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাধিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের ভূমিকা, সংগঠনিক দায়িত্ব পালন, দমন-পীড়নের মুখেও সক্রিয় থাকা, নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং নারী ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা—এই পাঁচটি বিষয়ই এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে উঠছে।
এই বিবেচনায় মহিলা দলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল নেত্রী, বিভাগীয় ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠক এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পাওয়া নারী প্রার্থীরা মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে যাঁরা গত দেড় দশকে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন কেবল ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়; বরং এটি বিএনপির নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংসদে দলটির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন, বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক নেত্রী
এন রায় রাজা

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। সরকার গঠনের পরপরই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসের মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ঈদের আগেই নির্বাচনের সব কার্যক্রম শেষ করতে চায় তারা। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে।
এ ছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। এখনো দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে, যা চূড়ান্ত হিসাবকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে।
মনোনয়ন পেতে পারেন যারা
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে বিএনপির নারী নেত্রীরা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে অধিকাংশই মনোনয়ন পাননি। তাঁদের অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেত্রী দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে আলোচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি। সেই সিদ্ধান্ত জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
যারা আলোচনায় আছেন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ।
মনোনয়ন পেতে আরও চেষ্টা চালাচ্ছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দল নেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগর। এ ছাড়া মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বনির্ভর সম্পাদক আসমা আজিজ।
চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন দলটির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজের স্ত্রী সুলতানা পারভীন।
নেত্রীদের প্রত্যাশা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, দলের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকাকালে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ত্যাগের মূল্যায়ন হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে পরাজিত হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।
বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়টি নিশ্চয়ই নেতৃত্ব বিবেচনায় নেবে।
চট্টগ্রাম নগর মহিলা দলের সহসভাপতি জেসমিনা খানম বলেন, টানা ১৭ বছর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দল ছাড়েননি।
দলীয় অবস্থান
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে বিএনপি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘বিএনপিতে অসংখ্য যোগ্য নারী নেত্রী রয়েছেন। সব দিক বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নির্ধারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাধিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের ভূমিকা, সংগঠনিক দায়িত্ব পালন, দমন-পীড়নের মুখেও সক্রিয় থাকা, নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং নারী ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা—এই পাঁচটি বিষয়ই এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে উঠছে।
এই বিবেচনায় মহিলা দলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল নেত্রী, বিভাগীয় ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠক এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পাওয়া নারী প্রার্থীরা মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে যাঁরা গত দেড় দশকে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন কেবল ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়; বরং এটি বিএনপির নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংসদে দলটির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




