শিরোনাম

প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে মুখমণ্ডল দেখিয়ে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে মুখমণ্ডল দেখিয়ে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে: মাহদী আমিন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

হজ বা পাসপোর্টের ছবির মতো মুখমণ্ডল দেখিয়ে প্রিসাইডিং বা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামি মূল্যবোধের ধারক দল হিসেবে বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের কাছে বোরকা ও নিকাব ধর্মীয় সংস্কৃতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা অবশ্যই নারীদের আব্রু ও পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু ইসলামি সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে, এনআইডি কার্ড, হজ, ওমরাহ, পাসপোর্ট বা ভিসার ছবি তোলার মতো করেই, মুখমণ্ডলের কিছু অংশ অনাবৃত রেখে ছবি তুলতে হয়। সেভাবে ভোটার তালিকা অনুযায়ী নারী প্রিসাইডিং বা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও নারী চ্যালেঞ্জকারী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোট প্রদানের আগে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।’

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, গত ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মোট ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক অনুমোদনের কথা জানায়। তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এবং পর্যবেক্ষণকাজে অভিজ্ঞতাহীন ১৬টি সংস্থা থেকে ৩১ হাজার ৮০১ জন পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়, যা মোট পর্যবেক্ষকের ৬৮.৮৯%। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে বিশেষ রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সংস্থাগুলোর মধ্যে রিসডা বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৪৫ জন, বাকেরগঞ্জ ফোরামের ১ হাজার ৫০ জন, অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশের ৬৪৩ জন। এছাড়া অ্যাকটিভ এইড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের ১ হাজার ৩৫ জন, ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের ১ হাজার ৫৩৫ জন, দীপ্ত মহিলা উন্নয়নের ৩৯৮ জন ও কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের ৩ হাজার ৮৬১ জনকে পর্যবেক্ষকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে।’

ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার প্রজ্ঞাপনে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আরও একটি বিষয় আমাদের নজরে এসেছে, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশে এটি বিরূপ প্রভাব ফেলবে, অনেককে ভোট প্রদানে নিরুৎসাহিত করবে, উৎসবের আমেজকে ম্লান করবে। আমরা এই সিদ্ধান্ত থেকে অতি দ্রুত সরে আসার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’

ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানের জরিপ, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং মাঠের বাস্তবতার নিরিখে বিএনপি জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায়। সারা দেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো নেতা যদি একজন থাকেন, তাহলে তিনি কে? সবাই একটি উত্তরই বলবেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর কোনো রাজনৈতিক দলে এমন কোনো নেতৃত্ব নেই, যাকে দল-মত, শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীনভাবে দেশের সত্যিকার নেতা হিসেবে মানুষ মনে করে। এই প্রমাণ আমরা দেখেছি তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে। যে দিনটি হয়তো ছিল বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দেশে ফেরার জমায়েত। আমরা দেখেছি, তিনি দেশজুড়ে প্রতিটি সভায় যখন ছুটে গেছেন, তখন কীভাবে জনগণের জোয়ার নেমে এসেছে। কীভাবে জনতা তাকে দেখতে রাস্তায় নেমে এসেছেন, তার সঙ্গে হাত মেলাতে এগিয়ে এসেছেন অসংখ্য মানুষ। নেতৃত্বের প্রতি এই ভালোবাসা, এই আস্থা আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের প্রতি নেই।’

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে। আসনটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার আছেন গাজীপুর-২ আসনে।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম– মাত্র ২ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে ২৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

/জেএইচ/