তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ, ৩৬ দিনের পদযাত্রায় ইনকিলাব মঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ, ৩৬ দিনের পদযাত্রায় ইনকিলাব মঞ্চ
মতবিনিময় সভায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

হাদি হত্যা, জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ দিনের পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শিরোনামে পদযাত্রাটি আগামী ৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হয়ে দেশের সর্বদক্ষিণের টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। ৩৬ দিনের এ কর্মসূচিতে পদযাত্রা, পথসভা ও সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের কাছে দাবিগুলো তুলে ধরার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। পদযাত্রাটি ২১ অক্টোবর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় প্রবেশ করে শাহবাগের শহীদ শরীফ ওসমান হাদি চত্বরে সমাবেশ করবে বলে সভায় জানানো হয়। এরপর দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর তিন দফা দাবির মধ্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন রয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে তেঁতুলিয়া থেকে কর্মসূচি শুরু হবে। ৩৬ দিনের এ পদযাত্রায় জনগণের কাছে এসব দাবির কথা তুলে ধরা হবে।

কর্মসূচির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের বিশ্বাস জনগণই এ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ দলীয় পরিচয়ের বাইরে এসে ন্যায়বিচারের দাবিতে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এসময় সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, গুন্ডামি বা সহিংসতার মাধ্যমে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে না। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জীবন বা পরিচয় নিয়ে আলোচনা না করে ঘটনার বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেজর আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের ধরন নিয়ে বিতর্ক না করে সেখানে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করুন। মাথায় রাখবেন, ২৪-এর পরের আশির দশকের এই পঁচাপচা রাজনীতি বাঁচাইতে পারবেন না। জনগণ লম্বা সময় ভয়ে থাকবে না, রুখে দাঁড়াবে। চব্বিশ এটাই প্রমাণ করেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মার, কবি বোরহান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান, সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক ও লেখক আকিফ আব্দুল্লাহ, জুলাই শহীদ জাবের ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন, জুলাইয়ে চোখ হারানো যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল শাফিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমদ প্রমুখ।

/এফআর/