জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি: নাহিদ ইসলাম

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি: নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

সিজেডএন টোয়েন্টিফোর পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত আবারও দিতে হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার। ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এ নিয়ে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ নানা যুক্তি দেখাচ্ছে। সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। কিন্তু আমাদের সরল প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বছরের পর বছর জ্বালানি তেলের দাম যখন তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী ছিল, তখন বিপিসি যে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে, সেই অর্থ কোথায় গেল?

বিপিসির মুনাফার হাজার হাজার কোটি টাকা যদি অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব হয়, তাহলে এখন সংকটে অন্য খাতে কাটছাঁট করে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে না কেন? কেন বারবার সাধারণ মানুষের পকেটকেই সরকারের সহজ লক্ষ্য বানানো হচ্ছে?

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করছে। বর্তমান সংকটের সময়ে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে অন্তত সাময়িকভাবে এসব কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন?

সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চাইছে। অথচ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নকে কেন এত জরুরি হয়ে পড়লো? মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান পর্যন্ত পে স্কেল কেন স্থগিত রাখা হলো না?

যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংকটের অজুহাতে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো সম্ভব হলে, রাষ্ট্রের অন্যান্য ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে না কেন?

সরকারি প্রেস রিলিজে জ্বালানি তেল ভারতে পাচার রোধ করাকে দাম বাড়ানো অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।‌ এর থেকে হাস্যকর যুক্তি আর কী হতে পারে? আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ব্যর্থতা দায় জনগণের ওপর কেন চাপানো হবে? আমরা সরকারের কাছে এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব চাই।

সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পিত, সৃজনশীল ও জনবান্ধব বিকল্প সমাধান না খুঁজে, সরাসরি জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের জনবিচ্ছিন্নতা ও দায়িত্বহীনতা প্রমাণ করে। জনগণের প্রতি ন্যূনতম দায়বদ্ধতা থাকলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিন দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না।

আমরা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে সংকট মোকাবিলায় জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে ব‍্যয় পুনর্বিন‍্যাস করে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”

/জেএইচ/