সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে: গোলাম পারওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে: গোলাম পারওয়ার
‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে একতরফাভাবে আইন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রত্যাহার করে আপাতত বিদ্যমান আইন বহাল রাখা উচিত। একইসঙ্গে মানহানি, গুজব, অসত্য তথ্য, তল্লাশি ও জব্দসংক্রান্ত ধারাগুলোর অস্পষ্ট ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের হয়রানির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদ।

সেমিনারে মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, ‘বিদ্যমান আইনটাই বহাল থাকুক আপাতত। প্রস্তাবিত সমস্ত সংশোধনী প্রত্যাহার করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘গুজব, অপতথ্য, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলে এসব ধারা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। জামিন অযোগ্য কিছু ধারাও রয়েছে, যেগুলো বাতিল করা উচিত।’

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকলেও সাংবাদিকদের কোনো প্রতিনিধি এবং সংসদের বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি নেই। গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হলে সেটি একতরফাভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কুমিল্লার ১৩ বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এবং রামিসা নামের এক শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা ও মরদেহ টুকরো করে ফেলে হলো। এসব ঘটনায় সরকারের দায় রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-কানুন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও শিশু ও সন্তানদের নিরাপত্তায় তিনি নিরব থেকে গেছেন।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান বলেন, ‘২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে এ ধরনের আইন প্রণয়নের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারার কারণে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আইনের বিধান সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানহানির অভিযোগে অন্তত ১৯০টি মামলা হয়েছিল। ফেসবুকে পোস্ট বা মন্তব্য করার কারণে ৯৮৬টি মামলা হয়েছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে নাগরিকের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। অপতথ্য নিয়ন্ত্রণের নামে যেন স্বাধীনতার ওপর সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

/জেএইচ/