সংসদের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট, মাইক বিকল ও অস্বস্তি

সংসদের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট, মাইক বিকল ও অস্বস্তি
বিশেষ প্রতিনিধি

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে হট্টগোল ও পরে রাষ্ট্রপতিকে ‘কিলার ইন দ্য পার্লামেন্ট’, ‘স্বৈরাচারের দোসর’-এসব আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
এই ঘটনার পাশাপাশি এবার এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া, স্পিকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়গুলো সরকারি দল ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কারও জন্যই স্বস্তিদায়ক ছিল না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে সাংবিধানিক রীতি ও সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে সংসদে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় ১০ মিনিটব্যাপী বিক্ষোভ করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যেরা। এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
বিকাল চারটার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিনকে ভাষণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সব সংসদ সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় শুধু জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার চেয়ারে বসেছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা তা অগ্রাহ্য করে বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দেন। এই হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে বসে থাকেন। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তার ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়ালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। এই সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। ওই মুহূর্তে কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন।
স্পিকার তখন সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। কিন্তু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। পরে স্পিকার সংসদ অধিবেশন ১৫ মার্চ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে স্বৈরাচারী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে মন্তব্য করে বলেন, বিগত তিনটি জাতী নির্বাচন ছিল প্রহসন। দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করায় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করেন।
অধিবেশনের শুরুতেই মাইক বিকল
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচিত হয়ে শপথ নেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। স্পিকারের আসনে বসে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন এমন সময় বাধে শব্দযান্ত্রিক অর্থাৎ মাইক বা সাউণ্ড সিস্টেমে বিভ্রাট, মাইকে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অধিবেশন শুরুই করতে পারেননি তিনি। পরে একটি হ্যান্ডমাইকে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারছি কিন্তু আপনারা শুনতে বা বলতে পারছেন না। পরে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। যদিও এই মাইক বিভ্রাট সংসদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলে। স্পিকারের কাছে এমপিরা মাইক বিভ্রাট হচ্ছে এমন অভিযোগ করতেই থাকেন, কানে/ হেড ফোনে তারা কিছু শুনতে পারছেন না এমন ইঙ্গিতও করতে থাকেন। এটা চলতে থাকে শেষ পর্যন্ত।
স্পিকার বলেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছি। এই সংসদ গণতান্ত্রিক বক্তব্য শুনতে অভ্যস্ত, তাই কিছুটা অনভ্যস্ততা থাকতে পারে। আশা করি, দ্রুতই এই পরিস্থিতির অবসান হবে। সকাল থেকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও এখন হঠাৎ এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। যদিও তা সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে অনেকেই শুনতে পাননি।
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনটি ফাঁকা রেখেই শুরু হয় অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুতেই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। আর স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম উত্থাপন করা হয়। তখন ‘হ্যাঁ’ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে যান। পরে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায় ৩০ মিনিটের জন্য।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন সরকারি দল ও রাষ্ট্রপতি কারও জন্য খুব একটা সুখকর বা প্রত্যাশিত ছিল এটা বলা যাবে না। বয়কট, চিৎকার, চেচামেচি, বিদায়ী সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদে সভাপতিত্ব করা নিয়ে জটিলতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং সংবিধানে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলীয় সদস্যদের রাষ্ট্রপতিকে ভাষন দিতে বাধা দেওয়াসহ সব মিলিয়ে প্রথম অধিবেশন বিশৃঙ্খলা ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মধ্যেই শেষ হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে হট্টগোল ও পরে রাষ্ট্রপতিকে ‘কিলার ইন দ্য পার্লামেন্ট’, ‘স্বৈরাচারের দোসর’-এসব আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
এই ঘটনার পাশাপাশি এবার এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া, স্পিকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়গুলো সরকারি দল ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কারও জন্যই স্বস্তিদায়ক ছিল না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে সাংবিধানিক রীতি ও সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে সংসদে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় ১০ মিনিটব্যাপী বিক্ষোভ করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যেরা। এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
বিকাল চারটার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিনকে ভাষণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সব সংসদ সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় শুধু জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার চেয়ারে বসেছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা তা অগ্রাহ্য করে বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দেন। এই হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে বসে থাকেন। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তার ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়ালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। এই সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। ওই মুহূর্তে কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন।
স্পিকার তখন সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। কিন্তু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। পরে স্পিকার সংসদ অধিবেশন ১৫ মার্চ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে স্বৈরাচারী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে মন্তব্য করে বলেন, বিগত তিনটি জাতী নির্বাচন ছিল প্রহসন। দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করায় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করেন।
অধিবেশনের শুরুতেই মাইক বিকল
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচিত হয়ে শপথ নেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। স্পিকারের আসনে বসে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন এমন সময় বাধে শব্দযান্ত্রিক অর্থাৎ মাইক বা সাউণ্ড সিস্টেমে বিভ্রাট, মাইকে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অধিবেশন শুরুই করতে পারেননি তিনি। পরে একটি হ্যান্ডমাইকে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারছি কিন্তু আপনারা শুনতে বা বলতে পারছেন না। পরে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। যদিও এই মাইক বিভ্রাট সংসদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলে। স্পিকারের কাছে এমপিরা মাইক বিভ্রাট হচ্ছে এমন অভিযোগ করতেই থাকেন, কানে/ হেড ফোনে তারা কিছু শুনতে পারছেন না এমন ইঙ্গিতও করতে থাকেন। এটা চলতে থাকে শেষ পর্যন্ত।
স্পিকার বলেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছি। এই সংসদ গণতান্ত্রিক বক্তব্য শুনতে অভ্যস্ত, তাই কিছুটা অনভ্যস্ততা থাকতে পারে। আশা করি, দ্রুতই এই পরিস্থিতির অবসান হবে। সকাল থেকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও এখন হঠাৎ এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। যদিও তা সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে অনেকেই শুনতে পাননি।
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনটি ফাঁকা রেখেই শুরু হয় অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুতেই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। আর স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম উত্থাপন করা হয়। তখন ‘হ্যাঁ’ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে যান। পরে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায় ৩০ মিনিটের জন্য।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন সরকারি দল ও রাষ্ট্রপতি কারও জন্য খুব একটা সুখকর বা প্রত্যাশিত ছিল এটা বলা যাবে না। বয়কট, চিৎকার, চেচামেচি, বিদায়ী সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদে সভাপতিত্ব করা নিয়ে জটিলতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং সংবিধানে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলীয় সদস্যদের রাষ্ট্রপতিকে ভাষন দিতে বাধা দেওয়াসহ সব মিলিয়ে প্রথম অধিবেশন বিশৃঙ্খলা ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মধ্যেই শেষ হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সংসদের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট, মাইক বিকল ও অস্বস্তি
বিশেষ প্রতিনিধি

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে হট্টগোল ও পরে রাষ্ট্রপতিকে ‘কিলার ইন দ্য পার্লামেন্ট’, ‘স্বৈরাচারের দোসর’-এসব আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
এই ঘটনার পাশাপাশি এবার এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া, স্পিকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়গুলো সরকারি দল ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কারও জন্যই স্বস্তিদায়ক ছিল না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে সাংবিধানিক রীতি ও সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে সংসদে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় ১০ মিনিটব্যাপী বিক্ষোভ করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যেরা। এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
বিকাল চারটার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিনকে ভাষণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সব সংসদ সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় শুধু জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার চেয়ারে বসেছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা তা অগ্রাহ্য করে বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দেন। এই হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে বসে থাকেন। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তার ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়ালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। এই সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। ওই মুহূর্তে কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন।
স্পিকার তখন সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। কিন্তু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। পরে স্পিকার সংসদ অধিবেশন ১৫ মার্চ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে স্বৈরাচারী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে মন্তব্য করে বলেন, বিগত তিনটি জাতী নির্বাচন ছিল প্রহসন। দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করায় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করেন।
অধিবেশনের শুরুতেই মাইক বিকল
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচিত হয়ে শপথ নেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। স্পিকারের আসনে বসে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন এমন সময় বাধে শব্দযান্ত্রিক অর্থাৎ মাইক বা সাউণ্ড সিস্টেমে বিভ্রাট, মাইকে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অধিবেশন শুরুই করতে পারেননি তিনি। পরে একটি হ্যান্ডমাইকে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারছি কিন্তু আপনারা শুনতে বা বলতে পারছেন না। পরে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। যদিও এই মাইক বিভ্রাট সংসদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলে। স্পিকারের কাছে এমপিরা মাইক বিভ্রাট হচ্ছে এমন অভিযোগ করতেই থাকেন, কানে/ হেড ফোনে তারা কিছু শুনতে পারছেন না এমন ইঙ্গিতও করতে থাকেন। এটা চলতে থাকে শেষ পর্যন্ত।
স্পিকার বলেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছি। এই সংসদ গণতান্ত্রিক বক্তব্য শুনতে অভ্যস্ত, তাই কিছুটা অনভ্যস্ততা থাকতে পারে। আশা করি, দ্রুতই এই পরিস্থিতির অবসান হবে। সকাল থেকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও এখন হঠাৎ এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। যদিও তা সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে অনেকেই শুনতে পাননি।
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনটি ফাঁকা রেখেই শুরু হয় অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুতেই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। আর স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম উত্থাপন করা হয়। তখন ‘হ্যাঁ’ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে যান। পরে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায় ৩০ মিনিটের জন্য।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন সরকারি দল ও রাষ্ট্রপতি কারও জন্য খুব একটা সুখকর বা প্রত্যাশিত ছিল এটা বলা যাবে না। বয়কট, চিৎকার, চেচামেচি, বিদায়ী সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদে সভাপতিত্ব করা নিয়ে জটিলতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং সংবিধানে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলীয় সদস্যদের রাষ্ট্রপতিকে ভাষন দিতে বাধা দেওয়াসহ সব মিলিয়ে প্রথম অধিবেশন বিশৃঙ্খলা ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মধ্যেই শেষ হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।




