শিরোনাম

মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লো, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মধ্যপ্রাচ্যগামী  ফ্লাইট নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লো,  ভোগান্তিতে যাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে ছবি: সিটিজেন জার্নাল

যুক্তরাষ্ট ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেড়েছে যুদ্ধের ব্যাপকতা ও ক্ষয়ক্ষতি। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে অনেক যাত্রীকে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেককে আবার সেখানে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যেপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ২৪৫ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ইরানের ওপর হামলার জেরে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে যেতে পারছেন না। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসীদের সহায়তায় সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোনো বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী সমস্যার সম্মুখীন হলে তা জানানোর জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে না পারা প্রবাসীদের ভিসা জটিলতা নিরসনে ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হয়েছে।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন কয়েকজন যাত্রী ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন কয়েকজন যাত্রী ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের ২ নম্বর টার্মিনালে মধ্যপ্রাচ্যগামী কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। এদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসেছেন মো. অপু বেপারী। কিন্তু দুপুর ২ টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইট থাকলেও সেটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি খুব হতাশ হয়ে বসেছিলেন।

অপু বেপারী বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বিমানবন্দরে এসেছি। ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আজকের তারিখ দেওয়া হয়েছে। এসে দেখি ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে। এখনতো বাড়িতে চলে যাওয়া ছাড়া কোনো অপশন নেই। সৌদি আরবে আদৌও যেতে পারবো কিনা তা জানি না।’

অপু বেপারীর মতো একই অবস্থা নেত্রকোনা থেকে আসা মো. রাসেল তালুকদারের। বিকাল ৫ টা ৪৫ মিনিটে তার কুয়েতগামী ফ্লাইট ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে।

রাসেল তালুকদার বলেন, ‘দুপুর ১২ টায় বিমানবন্দরে এসেছি। একটু আগে জানতে পারলাম আমার ফ্লাইট ক্যানসেল হয়ে গেছে। কুয়েতে যাওয়াটা এখন একরকম অনিশ্চিত হয়ে গেছে । এদিকে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে জানার ৩০ মিনিট পর রাসেল তালুকদারকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি যাওয়ার জন্য দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে বিমানবন্দরে এসেছেন মো. মঈনুদ্দিন। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা থেকে এসেছেন তিনি। রাত ৯ টা ১৫ মিনিটে তার ফ্লাইট। কিন্তু সেই ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

মো. মঈনুদ্দিন বলেন, ‘পরিবারের কথা চিন্তা করেই বিদেশ যাচ্ছি। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এখন আমি যেতে পারবো কিনা সেটাও জানি না। এদিকে ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে।’

এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমান বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকেই ফ্লাইটের বিপর্যয় শুরু হয়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছয়টি রুটে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে দাম্মাম, দোহা, মাসকাট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

/বিবি/