শিরোনাম

৫ আগস্টের পরের মামলা যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্টের পরের মামলা যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যূত্থানে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনরে মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। কোনো নিরীহ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হন সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন বার্তা দেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বৈঠক শুরু হয়, শেষ হয় বেলা আড়াইটায়।

পরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে একে একে সেগুলো তুলে ধরেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলা হয়েছে। কিছু সুবিধাবাদী মানুষ এসব মামলা করেছে। ব্যবসায়ী-সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষদের নামে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে এজন্য যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, নিরীহ মানুষ যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য এসব মামলা পুনরায় যাচাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ সরকারকে প্রতিবেদন দেবে।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা আবার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল) দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। বিগত সময়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কিনা, কাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তারা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য ছিল কিনা, তা দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে যারা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বহাল থাকবে। আর যাদের রাজনৈতিক উদ্দেশে এবং অপরাধের উদ্দেশে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেসব লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের কাজে যদি কেউ হস্তক্ষেপ করে, তবে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পুলিশের কাজে অনেক সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বন্ধ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। মানুষের হয়রানি হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। পুলিশ এমন কোনো কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপাররা (এসপি) অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে প্রটোকল দিয়ে থাকেন। এখন থেকে বিধির বাইরে গিয়ে এসপিরা কাউকে প্রটোকল দেবেন না।

লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি পদায়ন বন্ধ করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশের চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে। এখন থেকে পুলিশের ওসি ও এসপি পদায়নে লটারি পদ্ধতি বন্ধ করা হবে। অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে, লটারি ব্যবস্থার কারণে যাকে যেখানে প্রয়োজন, তাকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া অতীতেও লটারিতে পদায়ন পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় যিনি যেখানে যোগ্য, তাকে সেখানে পদায়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে পুলিশের কনস্টেবল পদে স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতি করে যারা চাকরি নিয়েছেন, তাদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নাম-ঠিকানা জালিয়াতি করে পুলিশে চাকরি নেওয়ার ঘটনা শোনা গেছে। এ ধরনের ঘটনা সত্যি কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অহেতুক পুলিশের সবাই যেন ঘাবড়ে না যান সে বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে এই কাজ না করেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের সব পর্যায়ে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ খালি রয়েছে। দ্রুত এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এছাড়া ২০০৬ সালে চাকরি হারানো ৬৩০ পুলিশ সদস্য চাকরি ফিরে পাবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

/জেএইচ/