শিরোনাম

রাজধানীর নদী দূষণে শীর্ষে ‘ঢাকা ওয়াসা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর নদী দূষণে শীর্ষে ‘ঢাকা ওয়াসা’
নদী দূষণ

রাজধানী ঢাকার চারপাশে বয়ে চলা নদীগুলো নগরবাসীর জন্য স্বস্তির উৎস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দূষণের কারণে সেগুলো এখন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীর সঙ্গে মিশে মানুষের ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এই বর্জ্য শুধু বেসরকারি কারখানা ফেলছে এমন নয়, সরকারি সংস্থাও এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলছে ঢাকা ওয়াসা।

জরিপ অনুযায়ী, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে মোট ৪২৪টি প্রত্যক্ষ বর্জ্য উৎসমুখ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪৪টি ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বেসরকারি শিল্প-কারখানার রয়েছে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একক সংস্থা হিসেবে সবেচেয়ে বেশি ওয়াসার ৬৬টি বর্জ্য উৎসমুখ (আউটলেট) শনাক্ত হয়েছে। এসব উৎসমুখ থেকে প্রতিদিন অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসার পরই রয়েছে সিটি কর্পোরেশনগুলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোট ৭৮টি আউটলেট দিয়ে নিয়মিত দূষিত পানি নদীতে যাচ্ছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩৭টি, ঢাকা দক্ষিণের ২১টি, ঢাকা উত্তরের ১৬টি ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চারটি আউটলেট রয়েছে।

রাজধানীর নদী দূষণের পেছনে ওয়াসার দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক না থাকায় রাজধানীর বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি ও মানববর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাসহ আশপাশের নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে শিল্পবর্জ্যের পাশাপাশি নগর বর্জ্যও নদীর পানির গুণগত মান দ্রুত নষ্ট করছে।

শিল্প-কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নদী দূষণে ভূমিকা রাখছে। রূপগঞ্জ পৌরসভার ১১টি, তারাবো পৌরসভার পাঁচটি, বালিগাঁও পৌরসভার দুটি এবং কাঞ্চন ও ঘোড়াশাল পৌরসভার একটি করে আউটলেট শীতলক্ষ্যা নদীতে বর্জ্য ফেলছে। এছাড়া কুতুবপুর, কালিন্দী, শাক্তা, কাউন্দিয়া, জিঞ্জিরা ও কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ড্রেনেজ লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে দূষিত পানি যাচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি আউটলেটও দূষণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এদিকে নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

/জেএইচ/