নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে ফের আলোচনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে ফের আলোচনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড
সিটিজেন ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একই দিনে পাঠানো দুটি পৃথক চিঠিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের অবস্থান নিয়ে।
এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ইজারা প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ অথবা বাতিল করার কথা বলা হলেও, আরেক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রথম চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে একই দিন বিকেলে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশনা আসে। ফলে এনসিটি ইজারা বিষয়ে সরকারের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে বন্দরসংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থগিত হয়ে যাওয়া এই ইজারা উদ্যোগ নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও সক্রিয় হয়েছে। একই বিষয়ে ভিন্নধর্মী দুটি নির্দেশনা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষির প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হলে দ্বিতীয় চিঠিতে আলোচনার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে ইজারা প্রক্রিয়া আগের অবস্থানেই রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরদিন, শুক্রবার, বন্দর কর্তৃপক্ষ দর-কষাকষি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সাত সদস্যের একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি চালু কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম। গত বছর বন্দরে পরিচালিত মোট কনটেইনারের প্রায় ৪৪ শতাংশ হ্যান্ডলিং হয়েছে এই টার্মিনালের মাধ্যমে।
বর্তমানে টার্মিনালটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে।
সর্বশেষ গত মে মাসে সিডিডিএল এক লাখ ২৬ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন করে আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এর আগে একটি দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।
ইজারা প্রক্রিয়ার পটভূমি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় এনসিটি দীর্ঘমেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সময়ক্ষেপণের কারণে সরকার পরিবর্তনের আগেই সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি নতুন গতি পায় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছে যায়। কিন্তু আলোচনায় অংশ নেওয়া কমিটির কয়েকজন সদস্যের আপত্তি, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডবিরোধী আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এনসিটি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
নতুন সরকারের আমলে পুনরায় আলোচনা
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ-দুবাই যৌথ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্ল্যাটফর্মের চতুর্থ বৈঠকে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু এনসিটি নয়, এর পাশের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) যুক্ত করে একটি সমন্বিত টার্মিনাল হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব দেয়। এতে বন্দরের সামগ্রিক কার্যকারিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
দুই চিঠির নেপথ্যে কী
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব নিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে গত ২৯ এপ্রিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত চেয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জবাবে পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চাইলে চলমান দর-কষাকষি এগিয়ে নিতে পারে, আবার প্রয়োজন মনে করলে পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিলও করতে পারে।
এই মতামতের ভিত্তিতেই প্রথম চিঠি জারি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে একই দিনে দ্বিতীয় চিঠিতে আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশনা আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।
এমজিএইচ গ্রুপের নতুন প্রস্তাব
এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকলেও দেশীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ এনসিটি পরিচালনার জন্য নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় তারা প্রতি কনটেইনারে বন্দরের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ ডলার রাজস্ব নিশ্চিত করতে পারবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নতুন কোনো প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
যদি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা না হয়, তাহলে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সামনে কোন পথে যাবে এনসিটি
এনসিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুটি ভিন্ন মতামত সামনে এসেছে।
দেশীয় অপারেটরদের একটি অংশের মতে, লাভজনক ও সফলভাবে পরিচালিত একটি চালু টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। তাদের যুক্তি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন প্রকল্প যেমন বে টার্মিনাল উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি অংশ মনে করে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—রেকর্ড গড়া এনসিটি কি দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবে?
এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা কাঠামো এবং দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একই দিনে পাঠানো দুটি পৃথক চিঠিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের অবস্থান নিয়ে।
এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ইজারা প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ অথবা বাতিল করার কথা বলা হলেও, আরেক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রথম চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে একই দিন বিকেলে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশনা আসে। ফলে এনসিটি ইজারা বিষয়ে সরকারের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে বন্দরসংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থগিত হয়ে যাওয়া এই ইজারা উদ্যোগ নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও সক্রিয় হয়েছে। একই বিষয়ে ভিন্নধর্মী দুটি নির্দেশনা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষির প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হলে দ্বিতীয় চিঠিতে আলোচনার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে ইজারা প্রক্রিয়া আগের অবস্থানেই রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরদিন, শুক্রবার, বন্দর কর্তৃপক্ষ দর-কষাকষি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সাত সদস্যের একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি চালু কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম। গত বছর বন্দরে পরিচালিত মোট কনটেইনারের প্রায় ৪৪ শতাংশ হ্যান্ডলিং হয়েছে এই টার্মিনালের মাধ্যমে।
বর্তমানে টার্মিনালটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে।
সর্বশেষ গত মে মাসে সিডিডিএল এক লাখ ২৬ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন করে আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এর আগে একটি দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।
ইজারা প্রক্রিয়ার পটভূমি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় এনসিটি দীর্ঘমেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সময়ক্ষেপণের কারণে সরকার পরিবর্তনের আগেই সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি নতুন গতি পায় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছে যায়। কিন্তু আলোচনায় অংশ নেওয়া কমিটির কয়েকজন সদস্যের আপত্তি, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডবিরোধী আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এনসিটি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
নতুন সরকারের আমলে পুনরায় আলোচনা
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ-দুবাই যৌথ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্ল্যাটফর্মের চতুর্থ বৈঠকে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু এনসিটি নয়, এর পাশের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) যুক্ত করে একটি সমন্বিত টার্মিনাল হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব দেয়। এতে বন্দরের সামগ্রিক কার্যকারিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
দুই চিঠির নেপথ্যে কী
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব নিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে গত ২৯ এপ্রিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত চেয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জবাবে পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চাইলে চলমান দর-কষাকষি এগিয়ে নিতে পারে, আবার প্রয়োজন মনে করলে পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিলও করতে পারে।
এই মতামতের ভিত্তিতেই প্রথম চিঠি জারি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে একই দিনে দ্বিতীয় চিঠিতে আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশনা আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।
এমজিএইচ গ্রুপের নতুন প্রস্তাব
এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকলেও দেশীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ এনসিটি পরিচালনার জন্য নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় তারা প্রতি কনটেইনারে বন্দরের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ ডলার রাজস্ব নিশ্চিত করতে পারবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নতুন কোনো প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
যদি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা না হয়, তাহলে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সামনে কোন পথে যাবে এনসিটি
এনসিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুটি ভিন্ন মতামত সামনে এসেছে।
দেশীয় অপারেটরদের একটি অংশের মতে, লাভজনক ও সফলভাবে পরিচালিত একটি চালু টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। তাদের যুক্তি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন প্রকল্প যেমন বে টার্মিনাল উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি অংশ মনে করে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—রেকর্ড গড়া এনসিটি কি দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবে?
এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা কাঠামো এবং দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে ফের আলোচনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড
সিটিজেন ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একই দিনে পাঠানো দুটি পৃথক চিঠিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের অবস্থান নিয়ে।
এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ইজারা প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ অথবা বাতিল করার কথা বলা হলেও, আরেক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রথম চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে একই দিন বিকেলে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশনা আসে। ফলে এনসিটি ইজারা বিষয়ে সরকারের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে বন্দরসংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থগিত হয়ে যাওয়া এই ইজারা উদ্যোগ নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও সক্রিয় হয়েছে। একই বিষয়ে ভিন্নধর্মী দুটি নির্দেশনা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষির প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হলে দ্বিতীয় চিঠিতে আলোচনার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে ইজারা প্রক্রিয়া আগের অবস্থানেই রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরদিন, শুক্রবার, বন্দর কর্তৃপক্ষ দর-কষাকষি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সাত সদস্যের একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি চালু কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম। গত বছর বন্দরে পরিচালিত মোট কনটেইনারের প্রায় ৪৪ শতাংশ হ্যান্ডলিং হয়েছে এই টার্মিনালের মাধ্যমে।
বর্তমানে টার্মিনালটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে।
সর্বশেষ গত মে মাসে সিডিডিএল এক লাখ ২৬ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন করে আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এর আগে একটি দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।
ইজারা প্রক্রিয়ার পটভূমি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় এনসিটি দীর্ঘমেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সময়ক্ষেপণের কারণে সরকার পরিবর্তনের আগেই সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি নতুন গতি পায় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছে যায়। কিন্তু আলোচনায় অংশ নেওয়া কমিটির কয়েকজন সদস্যের আপত্তি, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডবিরোধী আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এনসিটি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
নতুন সরকারের আমলে পুনরায় আলোচনা
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ-দুবাই যৌথ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্ল্যাটফর্মের চতুর্থ বৈঠকে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু এনসিটি নয়, এর পাশের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) যুক্ত করে একটি সমন্বিত টার্মিনাল হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব দেয়। এতে বন্দরের সামগ্রিক কার্যকারিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
দুই চিঠির নেপথ্যে কী
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব নিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে গত ২৯ এপ্রিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত চেয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জবাবে পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চাইলে চলমান দর-কষাকষি এগিয়ে নিতে পারে, আবার প্রয়োজন মনে করলে পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিলও করতে পারে।
এই মতামতের ভিত্তিতেই প্রথম চিঠি জারি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে একই দিনে দ্বিতীয় চিঠিতে আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশনা আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।
এমজিএইচ গ্রুপের নতুন প্রস্তাব
এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকলেও দেশীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ এনসিটি পরিচালনার জন্য নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় তারা প্রতি কনটেইনারে বন্দরের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ ডলার রাজস্ব নিশ্চিত করতে পারবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নতুন কোনো প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
যদি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা না হয়, তাহলে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সামনে কোন পথে যাবে এনসিটি
এনসিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুটি ভিন্ন মতামত সামনে এসেছে।
দেশীয় অপারেটরদের একটি অংশের মতে, লাভজনক ও সফলভাবে পরিচালিত একটি চালু টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। তাদের যুক্তি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন প্রকল্প যেমন বে টার্মিনাল উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি অংশ মনে করে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—রেকর্ড গড়া এনসিটি কি দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবে?
এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা কাঠামো এবং দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।




