পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, অবশেষে ১০৪ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, অবশেষে ১০৪ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
চাপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা

লালমনিরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১০৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তাদের নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে যান বিএসএফ। এছাড়া, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ৭ জনকে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে গত দুই দিনে লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ মোট ৮৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশইন) করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেননি।
অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিজিবি দাবি করেছে, পুশইন প্রতিরোধ করতে নজরদারি ও টহল অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শুন্যরেখা থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
শুক্রবার দিবাগত রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার তিনটি সীমান্ত এলাকায় দিয়ে তাদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতে একই সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিজিবির কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন অবস্থান করছিলেন।
এরপর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়ন এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ৩৩ জন।
পরে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তে অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
অন্যদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে তাদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করায়। পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তের শুন্যরেখায় অবস্থান করা মানুষদের নিজ ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
নওগাঁ
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে শূন্যরেখায় দুই দিন ধরে অবস্থান করা ২৮ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শুক্রবার গভীর রাতে বিএসএফ তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই ২৮ ব্যক্তি শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাদের অবস্থান বা চলাচল আর দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে গত ৪ জুন ভোরে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ছয়জন শিশু ছিল। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার সময় ঘাসুড়িয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট-২০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী।
তিনি জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে কোনো মানুষ যেন হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষে বিজিবি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও অরক্ষিত সীমান্তে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিজিবি নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোর রাতে নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলারের ৭৫৮/৫ কাছাকাছি ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি বিওপির সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি ও সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীর সহায়তায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। বর্তমানে ওই ১০ জন নাগরিককে শূন্য রেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে তাদের জিম্মায় রেখেছে।
এ ব্যাপারে বিজিবির নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাঁধার মুখে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সজাগ রয়েছি যেন পুশইন তারা করতে না পারে।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির তৎপরতায় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক চলাচলের খবর পায় বিজিবি। তাৎক্ষণিকভাবে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে বিএসএফের সহায়তায় কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিজিবি তাদের সীমান্ত অতিক্রমে বাধা দেয়।
ওই ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু রয়েছেন। তারা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাসকালে গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে আরও কয়েকশ মানুষের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে এসে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
বিজিবি জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
মেহেরপুর
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৭ জনকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে সীমান্তের ১০৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে শিশু-নারীসহ ৭ জনকে তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এই ৭ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে তারা ফিরে গিয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেন। তবে বিএসএফ তাঁদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

লালমনিরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১০৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তাদের নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে যান বিএসএফ। এছাড়া, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ৭ জনকে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে গত দুই দিনে লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ মোট ৮৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশইন) করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেননি।
অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিজিবি দাবি করেছে, পুশইন প্রতিরোধ করতে নজরদারি ও টহল অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শুন্যরেখা থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
শুক্রবার দিবাগত রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার তিনটি সীমান্ত এলাকায় দিয়ে তাদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতে একই সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিজিবির কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন অবস্থান করছিলেন।
এরপর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়ন এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ৩৩ জন।
পরে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তে অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
অন্যদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে তাদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করায়। পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তের শুন্যরেখায় অবস্থান করা মানুষদের নিজ ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
নওগাঁ
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে শূন্যরেখায় দুই দিন ধরে অবস্থান করা ২৮ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শুক্রবার গভীর রাতে বিএসএফ তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই ২৮ ব্যক্তি শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাদের অবস্থান বা চলাচল আর দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে গত ৪ জুন ভোরে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ছয়জন শিশু ছিল। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার সময় ঘাসুড়িয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট-২০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী।
তিনি জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে কোনো মানুষ যেন হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষে বিজিবি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও অরক্ষিত সীমান্তে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিজিবি নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোর রাতে নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলারের ৭৫৮/৫ কাছাকাছি ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি বিওপির সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি ও সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীর সহায়তায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। বর্তমানে ওই ১০ জন নাগরিককে শূন্য রেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে তাদের জিম্মায় রেখেছে।
এ ব্যাপারে বিজিবির নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাঁধার মুখে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সজাগ রয়েছি যেন পুশইন তারা করতে না পারে।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির তৎপরতায় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক চলাচলের খবর পায় বিজিবি। তাৎক্ষণিকভাবে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে বিএসএফের সহায়তায় কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিজিবি তাদের সীমান্ত অতিক্রমে বাধা দেয়।
ওই ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু রয়েছেন। তারা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাসকালে গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে আরও কয়েকশ মানুষের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে এসে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
বিজিবি জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
মেহেরপুর
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৭ জনকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে সীমান্তের ১০৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে শিশু-নারীসহ ৭ জনকে তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এই ৭ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে তারা ফিরে গিয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেন। তবে বিএসএফ তাঁদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, অবশেষে ১০৪ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
চাপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা

লালমনিরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১০৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তাদের নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে যান বিএসএফ। এছাড়া, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ৭ জনকে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে গত দুই দিনে লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ মোট ৮৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশইন) করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেননি।
অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিজিবি দাবি করেছে, পুশইন প্রতিরোধ করতে নজরদারি ও টহল অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শুন্যরেখা থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
শুক্রবার দিবাগত রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার তিনটি সীমান্ত এলাকায় দিয়ে তাদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতে একই সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিজিবির কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন অবস্থান করছিলেন।
এরপর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়ন এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ৩৩ জন।
পরে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তে অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
অন্যদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে তাদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করায়। পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তের শুন্যরেখায় অবস্থান করা মানুষদের নিজ ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
নওগাঁ
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে শূন্যরেখায় দুই দিন ধরে অবস্থান করা ২৮ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শুক্রবার গভীর রাতে বিএসএফ তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই ২৮ ব্যক্তি শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাদের অবস্থান বা চলাচল আর দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে গত ৪ জুন ভোরে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ছয়জন শিশু ছিল। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার সময় ঘাসুড়িয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট-২০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী।
তিনি জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে কোনো মানুষ যেন হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষে বিজিবি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও অরক্ষিত সীমান্তে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিজিবি নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোর রাতে নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলারের ৭৫৮/৫ কাছাকাছি ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি বিওপির সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি ও সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীর সহায়তায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। বর্তমানে ওই ১০ জন নাগরিককে শূন্য রেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে তাদের জিম্মায় রেখেছে।
এ ব্যাপারে বিজিবির নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাঁধার মুখে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সজাগ রয়েছি যেন পুশইন তারা করতে না পারে।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির তৎপরতায় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক চলাচলের খবর পায় বিজিবি। তাৎক্ষণিকভাবে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে বিএসএফের সহায়তায় কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিজিবি তাদের সীমান্ত অতিক্রমে বাধা দেয়।
ওই ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু রয়েছেন। তারা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাসকালে গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে আরও কয়েকশ মানুষের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে এসে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
বিজিবি জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
মেহেরপুর
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৭ জনকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে সীমান্তের ১০৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে শিশু-নারীসহ ৭ জনকে তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এই ৭ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে তারা ফিরে গিয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেন। তবে বিএসএফ তাঁদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।




