শিরোনাম

শতভাগ বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীর বেতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শতভাগ বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীর বেতন
জাতীয় বেতন কমিশনের লোগো

এক দশকের বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো। প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানো হবে না; বরং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ আসতে পারে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে , শুধু মূল বেতন বাড়ানোর বিষয়ই নয়, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুনভাবে নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই ধরনের কয়েকটি ভাতা একীভূত করার পাশাপাশি সময়োপযোগী নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া বৈঠকে অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভাতা সংক্রান্ত বিষয়টি বাস্তবায়নে একাধিক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারির বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে ।

জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চূড়ান্ত সুপারিশ সচিব কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা প্রয়োজন মনে করলে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্য নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমানো এবং তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর প্রতি বছর নির্ধারিত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে স্কেল আর ঘোষণা করা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটেও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির ইঙ্গিত রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বরাদ্দের বড় একটি অংশ নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্যও ব্যয় করা হবে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এক আশার সঞ্চার করেছে। তবে তারা শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুবিধারও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বাজার পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিতে হয়। আগের কমিশনের সুপারিশ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।

/এসবি/