শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়, এরপর চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়, এরপর চীন
তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তার মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন সরকারপ্রধানের চীন সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা আছে।

সরকারি সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তারেক রহমানকে নিজ নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানান। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সফরের জন্য দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে কুয়ালালামপুরকে বেছে নেয় সরকার।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে চিঠি দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ২২ জুন দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা নেয় সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ আসে ভারত থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠান। প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকেও আমন্ত্রণ আসে। গত এপ্রিল থেকে চীনও তারেক রহমানকে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

গত ৬ মে বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের অন্যতম আলোচ্যসূচি ছিল তারেক রহমানের সফর। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জুনের শেষ সপ্তাহে বেইজিং নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। গত ২৩ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি আসে ঢাকায়।

চীনের দূতাবাস থেকে ২৩ থেকে ২৬ জুন সফরের চিঠি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরটি চীনে নাকি অন্য কোনো দেশে হবে, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়। তখন মালয়েশিয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য শুধু প্রটোকলের বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। তাদের মতে, সেক্ষেত্রে ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারের জট খুলতে পারে। এর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের আগস্টে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন।

/এফসি/