শিরোনাম

বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তার আশ্বাস সিঙ্গাপুরের

বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে 
সহায়তার আশ্বাস সিঙ্গাপুরের

বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে এই আশ্বাস দেন সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লো।

সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার বলেন, সিঙ্গাপুর উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বছরব্যাপী প্রায় ৩০০টি সভা, সেমিনার, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এতে বাংলাদেশের পাুলিশের সদস্যরাও অংশ নিতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের নীতিগত সহযোগিতা চান।

হাইকমিশনার ডেরেক লো আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দেন। বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত কঠোর এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবস্থান করছে।

হাইকমিশনার ডেরেক লো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করেন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আবাসন ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগ অনুকূল নীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরের সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের কাছে ‘ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ বিষয়ক চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়া গেলে উভয় দেশ দ্রুত এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবে, যা অপরাধ দমনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বহুমুখী। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পারস্পরিক অভিন্ন স্বার্থ, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একই ধরনের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

বৈঠকে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

/বিবি/