শিরোনাম
জাতিসংঘের প্রতিবেদন

স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই প্রায় ৭ কোটি বাংলাদেশির

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই প্রায় ৭ কোটি বাংলাদেশির
জাতিসংঘের লোগো

বাংলাদেশে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে স্বাস্থ্যকর খাদ্য। জাতিসংঘের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ ব্যক্তি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেননি। দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক এ প্রতিবেদন যৌথভাবে প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থা—খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রতিবেদনে 'স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা' বলতে এমন খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা একজন মানুষের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এই খাদ্যতালিকায় শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাদ্য, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বিসহ ছয়টি প্রধান খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে, ৬৩ শতাংশ। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ, যেখানে এ হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কিনতে পারেননি। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে আফ্রিকায় এ হার সবচেয়ে বেশি, ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে এশিয়া, যেখানে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের পক্ষে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের মতে, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য এখনো ব্যয়বহুল। বিশেষ করে দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পরিমাণে এসব খাদ্য কিনতে পারছে না। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত স্থানীয় বাজারে পড়ে, কিন্তু দাম কমলে সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে সময় লাগে।

বেড়েছে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয়

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গড় ব্যয় ২০১৭ সালের ৩ দশমিক ৯০ ডলার (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এই ব্যয়ের বড় অংশই প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কেনার পেছনে ব্যয় হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দৈনিক ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান (৬ দশমিক ১৭ ডলার) ও শ্রীলঙ্কার (৫ দশমিক ২১ ডলার) পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। বিপরীতে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এ ধরনের খাদ্যের গড় ব্যয় সবচেয়ে কম, মাত্র ৩ দশমিক ৯৪ ডলার।

তবে প্রতিবেদনে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে দেশের ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ বা প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে সেই হার কমে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনের মতে, এ সময়ে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে প্রতিবেদনে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় কমানো, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা, পরিবহন ও সংরক্ষণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বাজার তথ্যব্যবস্থা আধুনিক করা এবং খাদ্যের অপচয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

/এমআর/