শিরোনাম

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ‘গাড়ির লংমার্চ’ নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ‘গাড়ির লংমার্চ’ নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
সংসদ অধিবেশনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে গাড়ির লংমার্চ কোনও কার্যকর পদ্ধতি নয়। গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করতো। এ সমস্যা সমাধানে বিরোধীদলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলো সরকার।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একইভাবে দুই বছর আগে রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনটি ছোট হলেও এতে দেশ ও জাতির বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং জাতীয় স্বার্থের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদের প্রতিটি আলোচনা কার্যকর বা অর্থবহ হয়েছে-এমন দাবি করছি না। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও জনগণের সমস্যা সমাধানে সংসদকে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। এ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিল না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন ও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা অনেক। সংসদে আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং দেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে-এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই জনজীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের সামনে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেছিলো। জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়ে তাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব নিয়েছে, তখন দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিল্প-কারখানা, শিক্ষা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড় তৈরি হয়েছিলো। এসব বিষয়ে দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো অবগত। আগের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না বর্তমান সরকার। বরং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ বঙ্গোপসাগরের দুই পাশে থাকা প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কেন দীর্ঘদিন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। বিশেষ কোনো দেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তারা নির্বিঘ্নে গ্যাস নিতে পারে, সে কারণেই বাংলাদেশের অংশে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। অন্যদিকে, গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশকে অনেক বেশি নির্ভরশীল করে ফেলা হয়েছিলো। ফলে জ্বালানি খাতে দেশের নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর ফলে ওই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বাধা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের দুটি এফএসআরইউর (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) একটিতে বৈদ্যুতিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে সেটিতে গ্যাস সরবরাহ ও রিগ্যাসিফিকেশনের কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হয়। এসব কারণেই বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে দেশের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের বন্ধুদের কাছ থেকেও সহযোগিতা আশা করা হয়েছিলো। সরকার ও বিরোধী দল মিলেই জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার কোনো বিকল্প নেই।

/এসবি/