শিরোনাম

সপ্তম দিনেও পাঠকশূন্য জিয়া স্মৃতি বইমেলা

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শেখ শাহরিয়ার হোসেন
সপ্তম দিনেও পাঠকশূন্য জিয়া স্মৃতি বইমেলা
বইমেলার সপ্তম দিনে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ফাঁকা পড়ে আছে অধিকাংশ স্টল। বৃহস্পতিবার বিকালে তোলা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে নয় দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’। তবে ৭ম দিনে এসে অনেকটাই পাঠকশূন্য দেখা গেছে মেলা প্রাঙ্গণ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় সরেজমিনে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ স্টলেই বিক্রেতাদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়, পাঠকের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এমনকি মেলার তথ্যকেন্দ্রও ফাঁকা অবস্থায় ছিল।

গত ৩ সেপ্টেম্বর মেলার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি ও আদর্শের ওপর রচিত বই এবং জিয়াউর রহমানের জীবনভিত্তিক সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি এই মেলার আয়োজন করে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলার কথা রয়েছে। বিএনপির নীতি ও আদর্শের ওপর রচিত বই এবং জিয়াউর রহমানের জীবনভিত্তিক সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি এ মেলার আয়োজন করেছে।

জিয়া স্মৃতি বইমেলার প্রবেশপথে একটি তোড়ন নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
জিয়া স্মৃতি বইমেলার প্রবেশপথে একটি তোড়ন নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

মেলায় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ক বইও রয়েছে। এ ছাড়া কিছু স্টলে ফিকশন ও নন-ফিকশন বইও দেখা যায়। দ্বিতীয় দিনে মেলাটিকে ‘জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। একই সময়ে মেলা ঘিরে পাঠাভ্যাস বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার কথাও বলা হয়।

তবে মেলার ৭ম দিনে এসে সেই জমজমাট পরিবেশের সঙ্গে মেলার বাস্তব চিত্রে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে গিয়ে দেখা যায়, কিছু স্টলে দু-একজন দর্শনার্থী বই দেখছেন। বেশিরভাগ স্টলেই কোনো পাঠক বা ক্রেতা নেই। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিক্রেতাদের বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

মেলার শুরুতে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বই বিক্রির কথা জানানো হলেও বিক্রির পরিস্থিতি নিয়ে অনেক স্টলেই তেমন ব্যস্ততা দেখা যায়নি। দ্বিতীয় দিনে এক বিক্রেতা জানিয়েছিলেন, ‘আমরা সবাই জিয়া হবো’ বইটি তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে এবং দর্শনার্থীরা বিভিন্ন বই হাতে নিয়ে দেখছেন। তবে মেলার পরবর্তী দিনগুলোতে স্টলগুলোতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বই কেনার ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি বলে জানান কয়েকজন বিক্রেতা।

মেলায় পাঠকের অপেক্ষায় বসে আছেন বিক্রয়কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
মেলায় পাঠকের অপেক্ষায় বসে আছেন বিক্রয়কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পার্ল পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী মেহেদি হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, মেলায় পাঠকের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। বই দেখার ও কেনার লোকও কম আসছেন। ফলে বিক্রিও তেমন হচ্ছে না। শুরুর দুই দিন কিছু বিক্রি হয়েছিল। সরকারকে বইয়ের এই সেক্টরটিকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলেই এ ধরনের মেলা পাঠকবান্ধব হবে।

সেগুনবাগিচা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা রবিউল রবি নামে এক দর্শনার্থী বলেন, মেলায় এসে দেখি লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম। স্টলগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বই থাকলেও সেভাবে পাঠক বা ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না। বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে তরুণদের আকৃষ্ট করতে মেলায় আলোচনা, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বই পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকলে পাঠকের উপস্থিতি বাড়তে পারে।

মেলার শুরুতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের জন্য মেলাটি উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি লেখক, গবেষক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়।

তবে মেলার শেষ পর্যায়ে এসে সাধারণ পাঠকের উপস্থিতি কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে, সেটিই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানো ও তরুণদের বইমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত একটি বইমেলায় পাঠকের এমন কম উপস্থিতি আয়োজনের সাফল্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

/এমআর/