শিরোনাম

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন ১৩ দেশের সরকারপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন ১৩ দেশের সরকারপ্রধান
ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতোমধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দিনটিকে ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য এই মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এবার রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংক্রান্ত কার্যক্রমও সক্রিয়ভাবে চলছে।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা অবশিষ্ট দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির মিত্র শরিক দলগুলো আরও তিনটি আসন লাভ করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যান্য শরিকেরা আরও ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের সংসদ একটি বৈচিত্র্যময় এবং প্রতিনিধিত্বশীল রূপ পেতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে, একই দিনে সকালে শপথ গ্রহণ করবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তারাই হবেন দেশের নতুন সরকার। শপথগ্রহণ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

/জেএইচ/