শিরোনাম

‘শেখ হাসিনার মতো ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় এসেছেন শুভেন্দু’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘শেখ হাসিনার মতো ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় এসেছেন শুভেন্দু’
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন বরকত উল্লাহ বুলু। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, ‘ভারতের একটি উগ্র হিন্দুবাদী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে যেমন করে শেখ হাসিনা ১৭ বছর ভোট জালিয়াতি করে ক্ষমতায় ছিল। তেমনি পশ্চিম বাংলায় ৯১ লাখ মুসলমানকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে বিজেপি সরকারের শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসেছে।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন।

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই মুসলমানদের ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলা শুরু হয়েছে। মোয়াজ্জেমদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়াসহ মুসলমানদের দোকানপাট লুণ্ঠন করা হয়েছে। পশ্চিম বঙ্গ ছাড়াও ভারতের অন্যান্য প্রদেশেও একইভাবে হামলা চলছে। শুধু মুসলমান নয়, খ্রিষ্টানদের উপরও হামলা চালানো হয়েছে।’

জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের উগ্রবাদী সরকার সংখ্যালঘু মানুষের উপর যেভাবে হামলা করছে, আমাদের জাতিসংঘের কাছে দাবি থাকবে– ভারতে একটি মিশন পাঠিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে একটি বিচার ব্যবস্থা করা। যারা নির্যাতন করছে, তাদেরকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে।’

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘সব সম্প্রদায়ের মানুষ সুন্দর করে বসবাস করে, এর উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে কোনো গন্ডগোল হয়েছে, এরকম কোনো নজির নেই। এখানকার মানুষ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে।’

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এ দেশের দেশপ্রেমিকরা এখন বিরোধী এবং সরকারি দলে রয়েছে। আজকে বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’

মানববন্ধনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, ‘ভারতকে ঘোষিতভাবে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশটির শিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসা উচিত।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে, তবুও অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণভাবে বসবাস করি। যে যার ধর্ম পালন করে থাকি, কেউ কারও উপর জুলুম করি না। কিন্তু ভারতে মুসলমানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপরে তারা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নির্যাতন করতে করতে হত্যা করা হয়েছে। কিছু বাচ্চাদেরকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে, উপাসনালয়গুলোতে হামলা করা হচ্ছে। এটা কখনই নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে পারেনা।’

ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আপনারা উত্তেজিত করবেন না, আমরা মানবিক সহায়তায় বিশ্বাসী। আমরা চাই, আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রেও শান্তু বিরাজ করুক, কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে আপনারা এসব করতে পারেন না।’

মানববন্ধনে এসময় বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এলবার্ট পি কষ্টাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/