শিরোনাম

ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি, কারাগারে মানবিক সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি, কারাগারে মানবিক সংকট
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সন্ত্রাস, খুন, মাদক কারবার, ধর্ষণের পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ও আটকের সংখ্যা বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে কারাগারে বন্দির চাপ। গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট ৭৫টি কারাগারে বন্দি ছিল ৯৩ হাজার ৪৪০ জন, অথচ এর ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৫ হাজার ২৮৬ জন। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দির এই চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষকে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দি ছিল প্রায় ৮৮ হাজার। এর এক সপ্তাহের মধ্যে বন্দির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৯ হাজারে। ওই সময় কারাগারগুলো থেকে অনেক বন্দি পলায়ন করে। যদিও বছর শেষে তা ৬০ হাজারের মতো হয়। ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এই বন্দির সংখ্যা ছিল ৭৭ হাজার ২৯১ জন। চলতি বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে ৯৩ হাজার ৪৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।

কয়েদির চেয়ে হাজতি বেশি

বন্দিদের মধ্যে যাদের মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়ে আদালতের মাধ্যমে দণ্ড পেয়েছেন, তাদের কয়েদি বলা হয়। অপরদিকে যেসব মামলার আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তারা হাজতি হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যান বলছে, কারাগারগুলোতে মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ২৮৬ জন। যেখানে পুরুষ বন্দির ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ২৫৭ জন এবং মহিলা বন্দির ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯ জন। তবে ওই সময় পর্যন্ত কারাগারে ৮৯ হাজার ৯২৯ জন পুরুষ ও ৩ হাজার ৫১১ জন নারী বন্দি ছিল। এই মোট বন্দিদের মধ্যে কয়েদি বা দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি মাত্র ৩০ হাজার ৩৮৫ জন। বাকি ৬৩ হাজারের মতো বন্দি রয়েছেন, যাদের বিচার কার্যক্রম চলমান।

কারা সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের মধ্যে মাদক মামলার বন্দি বেশি। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত কারাগারগুলোতে মাদক মামলায় অন্তত ১৮ হাজারের মতো বন্দি রয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণঅভ্যুত্থান দমনে হত্যা-হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা ও আসামির সংখ্যা বেড়েছে। ফলে কারাগারে বন্দির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলায় ৪৬৫ জন এবং হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩৭১ জন বন্দি রয়েছেন। এছাড়াও চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪১৪ জন এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ৬৮ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলের ৪৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ৭৬ এমপি, ৫৩ পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৮ আমলা রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে বিচার কার্যক্রম শেষ না হলে এবং বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান এবং নানা কারণে আটক-গ্রেপ্তার বেড়ে গেলে কারাগারে বন্দির সংখ্যা বেড়ে যায়। মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। এছাড়া আরও বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কারাগার তৈরি করলেও বন্দির চাপ কমবে। তবে এটা সভ্য দেশের নিদর্শন হতে পারে না বলে জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বাসস্থান, চলাফেরা, চিকিৎসা, খাদ্যসহ বিভিন্ন বিষয় হিসাব-নিকাশ করে ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়। এই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বা দ্বিগুণ বন্দি থাকলে বন্দি ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হতে পারে। খাবারের ওপর চাপ এবং চলাফেরাও সংকুচিত হয়। এতে স্বাস্থ্যগত ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা বন্দিদের জন্য ঘোষিত অধিকার ক্ষুণ্ন করে বলেও জানান তারা।

/জেএইচ/