গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল দেশবাসী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল দেশবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশন, পরিবহন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানায়- সবখানেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন। একইসঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার কোথাও দিনে ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার (২ আগস্ট) বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৪০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট। তবে শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়। রাত ১টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
পিডিবি সূত্র বলেছে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর থেকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঠিক না হলে বিদ্যুতের সংকটও দূর হবে না।
জানা গেছে, এই সংকটের শুরু হয় গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসাবাড়িতে জ্বলছে না গ্যাসের চুলা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ অথবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়েছে।
গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় ১২ থেকে ১৩ পিএসআই কম গ্যাস মিলছে। ফলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অনেক কারখানা দিনে উৎপাদন বন্ধ রেখে রাতে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহনেও। সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি। একইসঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
উত্তরা থেকে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন বলেন, উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে রায়েরবাগের ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু সেখানেও দীর্ঘ লাইনে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উবারচালক জাকির হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না পাওয়ায় তিনি মাতুয়াইলের একটি স্টেশনে আসেন। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত।
অটোরিকশাচালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। আগে একই সময়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস নেওয়া সম্ভব হতো।
এদিকে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাস-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর ও স্মৃতিধারা এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ শুকনো খাবার খাচ্ছেন, কেউ বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
পলাশপুরের বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর ধরেই গ্যাস-সংকট চলছে। আগে গভীর রাতে কিছু সময় গ্যাস মিললেও গত চার–পাঁচ দিন ধরে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিয়মিত রান্না ও খাবার গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে, এতে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং নগরজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (কারিগরি) পরিতোষ সূত্রধর বলেন, গ্যাস-সংকট দেখা দেওয়ার পর লোডশেডিংও কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে রবিবার দিনভর প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট হারে লোডশেডিং দিতে হয়েছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায়। বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠার পর লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তা জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে।
তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণে গতকাল সোমবার বরগুনায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশন, পরিবহন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানায়- সবখানেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন। একইসঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার কোথাও দিনে ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার (২ আগস্ট) বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৪০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট। তবে শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়। রাত ১টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
পিডিবি সূত্র বলেছে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর থেকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঠিক না হলে বিদ্যুতের সংকটও দূর হবে না।
জানা গেছে, এই সংকটের শুরু হয় গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসাবাড়িতে জ্বলছে না গ্যাসের চুলা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ অথবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়েছে।
গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় ১২ থেকে ১৩ পিএসআই কম গ্যাস মিলছে। ফলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অনেক কারখানা দিনে উৎপাদন বন্ধ রেখে রাতে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহনেও। সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি। একইসঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
উত্তরা থেকে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন বলেন, উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে রায়েরবাগের ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু সেখানেও দীর্ঘ লাইনে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উবারচালক জাকির হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না পাওয়ায় তিনি মাতুয়াইলের একটি স্টেশনে আসেন। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত।
অটোরিকশাচালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। আগে একই সময়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস নেওয়া সম্ভব হতো।
এদিকে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাস-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর ও স্মৃতিধারা এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ শুকনো খাবার খাচ্ছেন, কেউ বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
পলাশপুরের বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর ধরেই গ্যাস-সংকট চলছে। আগে গভীর রাতে কিছু সময় গ্যাস মিললেও গত চার–পাঁচ দিন ধরে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিয়মিত রান্না ও খাবার গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে, এতে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং নগরজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (কারিগরি) পরিতোষ সূত্রধর বলেন, গ্যাস-সংকট দেখা দেওয়ার পর লোডশেডিংও কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে রবিবার দিনভর প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট হারে লোডশেডিং দিতে হয়েছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায়। বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠার পর লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তা জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে।
তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণে গতকাল সোমবার বরগুনায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল দেশবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশন, পরিবহন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানায়- সবখানেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন। একইসঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার কোথাও দিনে ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার (২ আগস্ট) বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৪০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট। তবে শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়। রাত ১টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
পিডিবি সূত্র বলেছে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর থেকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঠিক না হলে বিদ্যুতের সংকটও দূর হবে না।
জানা গেছে, এই সংকটের শুরু হয় গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসাবাড়িতে জ্বলছে না গ্যাসের চুলা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ অথবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়েছে।
গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় ১২ থেকে ১৩ পিএসআই কম গ্যাস মিলছে। ফলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অনেক কারখানা দিনে উৎপাদন বন্ধ রেখে রাতে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহনেও। সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি। একইসঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
উত্তরা থেকে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন বলেন, উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে রায়েরবাগের ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু সেখানেও দীর্ঘ লাইনে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উবারচালক জাকির হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না পাওয়ায় তিনি মাতুয়াইলের একটি স্টেশনে আসেন। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত।
অটোরিকশাচালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। আগে একই সময়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস নেওয়া সম্ভব হতো।
এদিকে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাস-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর ও স্মৃতিধারা এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ শুকনো খাবার খাচ্ছেন, কেউ বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
পলাশপুরের বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর ধরেই গ্যাস-সংকট চলছে। আগে গভীর রাতে কিছু সময় গ্যাস মিললেও গত চার–পাঁচ দিন ধরে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিয়মিত রান্না ও খাবার গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে, এতে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং নগরজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (কারিগরি) পরিতোষ সূত্রধর বলেন, গ্যাস-সংকট দেখা দেওয়ার পর লোডশেডিংও কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে রবিবার দিনভর প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট হারে লোডশেডিং দিতে হয়েছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায়। বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠার পর লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তা জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে।
তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণে গতকাল সোমবার বরগুনায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন, এলএনজিতেও মিলছে না স্বস্তি
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রথমে হুমকি পরে প্রত্যাহার
গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং আর কতদিন চলবে






