শিরোনাম

ই-রিকশা দেশের বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে: ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
 ই-রিকশা দেশের বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

ই-রিকশা এখন দেশের বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা না করে একটি কার্যকর নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন,রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার সংখ্যা বাড়ার কারণে চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতাকে একটি সুসংগঠিত নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশার যান্ত্রিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, চালকদের লাইসেন্সিং, যানবাহনের নিবন্ধন এবং কোন কোন সড়ক বা এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্রুত এ নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে ই-রিকশার চলাচলকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা রয়েছে, তা অনেকটাই কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, অতীতে রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। এর একটি কারণ হলো, আগে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকাংশে নিশ্চিত রেখে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই নীতিতে পরিবর্তন এনে সংকটের বোঝা সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে। কারণ, বড় শহরগুলোতে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি পরিচালিত হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শহরে বসবাসকারী মানুষের ক্ষমতা বা প্রভাবের কারণে সেখানে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে। বর্তমান সংকটের সময়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লোডশেডিংয়ের কষ্টও সবাইকে তুলনামূলকভাবে ভাগ করে নিতে হবে। এ কারণেই ঢাকাতেও এখন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, বিভিন্ন কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়াসহ একাধিক কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কারণে কমবেশি সবাইকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করতে হবে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলে মনে করছে না সরকার। সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

/এসবি/