আগামী ৫ বছরে কোন চাকরি বাড়বে, কোনগুলো কমবে?

আগামী ৫ বছরে কোন চাকরি বাড়বে, কোনগুলো কমবে?
চাকরি ডেস্ক

আগামী পাঁচ বছরে বদলে যেতে পারে বিশ্ব চাকরির বাজারের চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তির অগ্রগতি, সবুজ অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাবে কিছু চাকরির চাহিদা বাড়বে, আবার কমবে কিছু প্রচলিত পেশার সুযোগ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫ বলছে, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে, বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত বা স্থানচ্যুত হতে পারে।
যে চাকরিগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে
এআই ও মেশিন লার্নিং
এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর অন্যতম। ব্যবসা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন—প্রায় সব খাতেই এআই ব্যবহারের বিস্তারের কারণে এই ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউইএফ-এর তালিকায় এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের মতো পেশাও দ্রুততম বর্ধনশীল পেশার মধ্যে রয়েছে।
ডেটা ও বিগ ডেটা
প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি ডিজিটাল হবে, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ ও তা থেকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনও তত বাড়বে। ফলে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পেশায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর পূর্বাভাসে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞকে ২০২৫–২০৩০ সময়ের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পেশাগুলোর শীর্ষে রাখা হয়েছে।
সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার
এআই সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রকে বদলে দিলেও সফটওয়্যার ডেভেলপারের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং এআই-ভিত্তিক নতুন পণ্য, অ্যাপ্লিকেশন ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির কারণে এই পেশায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর তালিকায় সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার দ্রুততম বর্ধনশীল পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা
ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর পূর্বাভাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা শীর্ষ দ্রুত-বর্ধনশীল পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে; তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও শীর্ষ ১৫-তে রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগের ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকৌশলী, পরিবেশ প্রকৌশলী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি টেকনিশিয়ানদের মতো পেশার গুরুত্ব বাড়তে পারে।
বৈদ্যুতিক ও স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা
শুধু প্রযুক্তিনির্ভর চাকরিই নয়, মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক পেশার চাহিদাও বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় নার্সিং পেশাজীবী, ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারী এবং সমাজসেবা ও কাউন্সিলিং পেশাজীবীদের মতো পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউইএফ।
শিক্ষা
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার কারণে শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষার শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়/উচ্চশিক্ষার শিক্ষকরা আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন চাকরি তৈরির তালিকায় রয়েছে।
কৃষি, নির্মাণ ও ডেলিভারি
প্রযুক্তির কারণে সব ধরনের প্রচলিত কাজ কমে যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। ডব্লিউইএফ-এর হিসাবে সংখ্যার বিচারে খেতমজুর, ডেলিভারি চালক, ভবন নির্মাণ শ্রমিক, বিক্রয়কর্মী ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শ্রমিকদের মতো পেশায় বড় ধরনের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হতে পারে।
যে চাকরিগুলোর চাহিদা কমতে পারে
ক্যাশিয়ার ও টিকিট ক্লার্ক
ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বয়ংক্রিয় চেকআউট এবং অনলাইন টিকিটিংয়ের বিস্তারের কারণে ক্যাশিয়ার ও টিকিট ক্লার্কদের মতো কাজের প্রয়োজন কমতে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর প্রতিবেদনে এসব পেশাকে দ্রুত হ্রাস পাওয়া চাকরির তালিকায় রাখা হয়েছে।
ডাটা এন্ট্রি
ডাটা ইনপুটের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ডাটা এন্ট্রি ক্লার্কদের চাহিদা কমার ঝুঁকি রয়েছে।
আইএলও-এর বিশ্লেষণেও দাপ্তরিক কাজকে জেনএআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত পেশাগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক সহকারী
প্রশাসনিক সহকারী ও নির্বাহী সচিবদের অনেক কাজ—যেমন তথ্য সাজানো, নথি তৈরি, সময়সূচি ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ যোগাযোগ—ডিজিটাল টুল ও এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এই পেশাগুলোর কিছু দায়িত্ব কমে যেতে পারে বা নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংক টেলার
ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিস্তারের কারণে ব্যাংক টেলারের মতো প্রচলিত কাজের চাহিদা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ডব্লিউইএফ এই পেশাকে দ্রুত হ্রাস পাওয়া চাকরির তালিকায় রেখেছে।
পোস্টাল সার্ভিস
চিঠিপত্রের পরিবর্তে ই-মেইল, মেসেজিং ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যবহার বাড়ায় ডাকসেবা ক্লার্কদের মতো কাজের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা কমতে পারে।
প্রিন্টিং-সংক্রান্ত কাজ
ডিজিটাল কনটেন্ট ও অনলাইন প্রকাশনার বিস্তারের ফলে ছাপাখানা কর্মীদের মতো প্রচলিত পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
হিসাবরক্ষণ ও অডিটের কিছু কাজ
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষার অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ সফটওয়্যার ও এআই দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তাই এই পেশা পুরোপুরি বিলুপ্ত না হলেও এর কিছু রুটিন কাজের চাহিদা কমতে পারে এবং পেশাটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব বাড়বে। ডব্লিউইএফ-এর দ্রুত হ্রাস পাওয়া পেশার তালিকায় হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষকরাও রয়েছে।
চাকরি কমবে, নাকি বদলে যাবে?
চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এখানেই। এআই কোনো একটি পেশার কিছু কাজ করে ফেলতে পারলেই পুরো পেশাটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না।
আইএলও-এর ২০২৫ সালের গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান কোনো না কোনো মাত্রায় জেনএআই-এর প্রভাবে পড়তে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফল হলো কাজের রূপান্তর, অর্থাৎ কর্মীর কাজের ধরন বদলে যাওয়া—পুরোপুরি চাকরি হারানো নয়।
উদাহরণ হিসেবে একজন হিসাবরক্ষকের কিছু ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ এআই করতে পারলেও আর্থিক সিদ্ধান্ত, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, জটিল সমস্যা সমাধান ও ব্যবসায়িক পরামর্শের মতো কাজে মানুষের ভূমিকা থেকে যেতে পারে।
আগামী দিনের চাকরির জন্য কোন দক্ষতা জরুরি?
চাকরির বাজার বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে দক্ষতার চাহিদাও। ডব্লিউইএফ-এর হিসাবে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে একজন কর্মীর বর্তমান দক্ষতার গড়ে ৩৯ শতাংশ পরিবর্তিত বা অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রয়েছে—
- এআই ও বিগ ডেটা
- নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা
- প্রযুক্তিগত সাক্ষরতা
- বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা
- সৃজনশীল চিন্তা
- অভিযোজনক্ষমতা, নমনীয়তা ও চপলতা
- কৌতূহল ও আজীবন শেখার মানসিকতা
অর্থাৎ শুধু একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি শেখাই যথেষ্ট হবে না। প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তা কী?
বিশ্বের চাকরির বাজারের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে যারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বা ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের শুধু একটি ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত ও মানবিক—দুই ধরনের দক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এআই-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার বদলে এআই ব্যবহার করতে শেখাই হতে পারে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বড় সুবিধা। একই সঙ্গে ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য মানুষের দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
কারণ আগামী পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত ‘মানুষ বনাম মেশিন’ হবে না; বরং মানুষ ও মেশিন একসঙ্গে কীভাবে কাজ করবে—সেটিই হবে চাকরির বাজারের নতুন বাস্তবতা।
/এবি/

আগামী পাঁচ বছরে বদলে যেতে পারে বিশ্ব চাকরির বাজারের চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তির অগ্রগতি, সবুজ অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাবে কিছু চাকরির চাহিদা বাড়বে, আবার কমবে কিছু প্রচলিত পেশার সুযোগ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫ বলছে, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে, বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত বা স্থানচ্যুত হতে পারে।
যে চাকরিগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে
এআই ও মেশিন লার্নিং
এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর অন্যতম। ব্যবসা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন—প্রায় সব খাতেই এআই ব্যবহারের বিস্তারের কারণে এই ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউইএফ-এর তালিকায় এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের মতো পেশাও দ্রুততম বর্ধনশীল পেশার মধ্যে রয়েছে।
ডেটা ও বিগ ডেটা
প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি ডিজিটাল হবে, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ ও তা থেকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনও তত বাড়বে। ফলে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পেশায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর পূর্বাভাসে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞকে ২০২৫–২০৩০ সময়ের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পেশাগুলোর শীর্ষে রাখা হয়েছে।
সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার
এআই সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রকে বদলে দিলেও সফটওয়্যার ডেভেলপারের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং এআই-ভিত্তিক নতুন পণ্য, অ্যাপ্লিকেশন ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির কারণে এই পেশায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর তালিকায় সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার দ্রুততম বর্ধনশীল পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা
ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর পূর্বাভাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা শীর্ষ দ্রুত-বর্ধনশীল পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে; তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও শীর্ষ ১৫-তে রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগের ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকৌশলী, পরিবেশ প্রকৌশলী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি টেকনিশিয়ানদের মতো পেশার গুরুত্ব বাড়তে পারে।
বৈদ্যুতিক ও স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা
শুধু প্রযুক্তিনির্ভর চাকরিই নয়, মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক পেশার চাহিদাও বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় নার্সিং পেশাজীবী, ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারী এবং সমাজসেবা ও কাউন্সিলিং পেশাজীবীদের মতো পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউইএফ।
শিক্ষা
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার কারণে শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষার শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়/উচ্চশিক্ষার শিক্ষকরা আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন চাকরি তৈরির তালিকায় রয়েছে।
কৃষি, নির্মাণ ও ডেলিভারি
প্রযুক্তির কারণে সব ধরনের প্রচলিত কাজ কমে যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। ডব্লিউইএফ-এর হিসাবে সংখ্যার বিচারে খেতমজুর, ডেলিভারি চালক, ভবন নির্মাণ শ্রমিক, বিক্রয়কর্মী ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শ্রমিকদের মতো পেশায় বড় ধরনের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হতে পারে।
যে চাকরিগুলোর চাহিদা কমতে পারে
ক্যাশিয়ার ও টিকিট ক্লার্ক
ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বয়ংক্রিয় চেকআউট এবং অনলাইন টিকিটিংয়ের বিস্তারের কারণে ক্যাশিয়ার ও টিকিট ক্লার্কদের মতো কাজের প্রয়োজন কমতে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর প্রতিবেদনে এসব পেশাকে দ্রুত হ্রাস পাওয়া চাকরির তালিকায় রাখা হয়েছে।
ডাটা এন্ট্রি
ডাটা ইনপুটের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ডাটা এন্ট্রি ক্লার্কদের চাহিদা কমার ঝুঁকি রয়েছে।
আইএলও-এর বিশ্লেষণেও দাপ্তরিক কাজকে জেনএআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত পেশাগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক সহকারী
প্রশাসনিক সহকারী ও নির্বাহী সচিবদের অনেক কাজ—যেমন তথ্য সাজানো, নথি তৈরি, সময়সূচি ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ যোগাযোগ—ডিজিটাল টুল ও এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এই পেশাগুলোর কিছু দায়িত্ব কমে যেতে পারে বা নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংক টেলার
ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিস্তারের কারণে ব্যাংক টেলারের মতো প্রচলিত কাজের চাহিদা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ডব্লিউইএফ এই পেশাকে দ্রুত হ্রাস পাওয়া চাকরির তালিকায় রেখেছে।
পোস্টাল সার্ভিস
চিঠিপত্রের পরিবর্তে ই-মেইল, মেসেজিং ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যবহার বাড়ায় ডাকসেবা ক্লার্কদের মতো কাজের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা কমতে পারে।
প্রিন্টিং-সংক্রান্ত কাজ
ডিজিটাল কনটেন্ট ও অনলাইন প্রকাশনার বিস্তারের ফলে ছাপাখানা কর্মীদের মতো প্রচলিত পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
হিসাবরক্ষণ ও অডিটের কিছু কাজ
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষার অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ সফটওয়্যার ও এআই দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তাই এই পেশা পুরোপুরি বিলুপ্ত না হলেও এর কিছু রুটিন কাজের চাহিদা কমতে পারে এবং পেশাটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব বাড়বে। ডব্লিউইএফ-এর দ্রুত হ্রাস পাওয়া পেশার তালিকায় হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষকরাও রয়েছে।
চাকরি কমবে, নাকি বদলে যাবে?
চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এখানেই। এআই কোনো একটি পেশার কিছু কাজ করে ফেলতে পারলেই পুরো পেশাটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না।
আইএলও-এর ২০২৫ সালের গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান কোনো না কোনো মাত্রায় জেনএআই-এর প্রভাবে পড়তে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফল হলো কাজের রূপান্তর, অর্থাৎ কর্মীর কাজের ধরন বদলে যাওয়া—পুরোপুরি চাকরি হারানো নয়।
উদাহরণ হিসেবে একজন হিসাবরক্ষকের কিছু ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ এআই করতে পারলেও আর্থিক সিদ্ধান্ত, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, জটিল সমস্যা সমাধান ও ব্যবসায়িক পরামর্শের মতো কাজে মানুষের ভূমিকা থেকে যেতে পারে।
আগামী দিনের চাকরির জন্য কোন দক্ষতা জরুরি?
চাকরির বাজার বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে দক্ষতার চাহিদাও। ডব্লিউইএফ-এর হিসাবে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে একজন কর্মীর বর্তমান দক্ষতার গড়ে ৩৯ শতাংশ পরিবর্তিত বা অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রয়েছে—
- এআই ও বিগ ডেটা
- নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা
- প্রযুক্তিগত সাক্ষরতা
- বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা
- সৃজনশীল চিন্তা
- অভিযোজনক্ষমতা, নমনীয়তা ও চপলতা
- কৌতূহল ও আজীবন শেখার মানসিকতা
অর্থাৎ শুধু একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি শেখাই যথেষ্ট হবে না। প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তা কী?
বিশ্বের চাকরির বাজারের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে যারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বা ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের শুধু একটি ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত ও মানবিক—দুই ধরনের দক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এআই-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার বদলে এআই ব্যবহার করতে শেখাই হতে পারে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বড় সুবিধা। একই সঙ্গে ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য মানুষের দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
কারণ আগামী পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত ‘মানুষ বনাম মেশিন’ হবে না; বরং মানুষ ও মেশিন একসঙ্গে কীভাবে কাজ করবে—সেটিই হবে চাকরির বাজারের নতুন বাস্তবতা।
/এবি/

আগামী ৫ বছরে কোন চাকরি বাড়বে, কোনগুলো কমবে?
চাকরি ডেস্ক

আগামী পাঁচ বছরে বদলে যেতে পারে বিশ্ব চাকরির বাজারের চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তির অগ্রগতি, সবুজ অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাবে কিছু চাকরির চাহিদা বাড়বে, আবার কমবে কিছু প্রচলিত পেশার সুযোগ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫ বলছে, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে, বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত বা স্থানচ্যুত হতে পারে।
যে চাকরিগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে
এআই ও মেশিন লার্নিং
এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর অন্যতম। ব্যবসা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন—প্রায় সব খাতেই এআই ব্যবহারের বিস্তারের কারণে এই ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউইএফ-এর তালিকায় এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের মতো পেশাও দ্রুততম বর্ধনশীল পেশার মধ্যে রয়েছে।
ডেটা ও বিগ ডেটা
প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি ডিজিটাল হবে, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ ও তা থেকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনও তত বাড়বে। ফলে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পেশায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর পূর্বাভাসে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞকে ২০২৫–২০৩০ সময়ের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পেশাগুলোর শীর্ষে রাখা হয়েছে।
সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার
এআই সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রকে বদলে দিলেও সফটওয়্যার ডেভেলপারের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং এআই-ভিত্তিক নতুন পণ্য, অ্যাপ্লিকেশন ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির কারণে এই পেশায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর তালিকায় সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার দ্রুততম বর্ধনশীল পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা
ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর পূর্বাভাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা শীর্ষ দ্রুত-বর্ধনশীল পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে; তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও শীর্ষ ১৫-তে রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগের ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকৌশলী, পরিবেশ প্রকৌশলী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি টেকনিশিয়ানদের মতো পেশার গুরুত্ব বাড়তে পারে।
বৈদ্যুতিক ও স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন বিশেষজ্ঞরা আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা
শুধু প্রযুক্তিনির্ভর চাকরিই নয়, মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক পেশার চাহিদাও বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় নার্সিং পেশাজীবী, ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারী এবং সমাজসেবা ও কাউন্সিলিং পেশাজীবীদের মতো পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউইএফ।
শিক্ষা
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার কারণে শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষার শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়/উচ্চশিক্ষার শিক্ষকরা আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন চাকরি তৈরির তালিকায় রয়েছে।
কৃষি, নির্মাণ ও ডেলিভারি
প্রযুক্তির কারণে সব ধরনের প্রচলিত কাজ কমে যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। ডব্লিউইএফ-এর হিসাবে সংখ্যার বিচারে খেতমজুর, ডেলিভারি চালক, ভবন নির্মাণ শ্রমিক, বিক্রয়কর্মী ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শ্রমিকদের মতো পেশায় বড় ধরনের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হতে পারে।
যে চাকরিগুলোর চাহিদা কমতে পারে
ক্যাশিয়ার ও টিকিট ক্লার্ক
ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বয়ংক্রিয় চেকআউট এবং অনলাইন টিকিটিংয়ের বিস্তারের কারণে ক্যাশিয়ার ও টিকিট ক্লার্কদের মতো কাজের প্রয়োজন কমতে পারে।
ডব্লিউইএফ-এর প্রতিবেদনে এসব পেশাকে দ্রুত হ্রাস পাওয়া চাকরির তালিকায় রাখা হয়েছে।
ডাটা এন্ট্রি
ডাটা ইনপুটের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ডাটা এন্ট্রি ক্লার্কদের চাহিদা কমার ঝুঁকি রয়েছে।
আইএলও-এর বিশ্লেষণেও দাপ্তরিক কাজকে জেনএআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত পেশাগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক সহকারী
প্রশাসনিক সহকারী ও নির্বাহী সচিবদের অনেক কাজ—যেমন তথ্য সাজানো, নথি তৈরি, সময়সূচি ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ যোগাযোগ—ডিজিটাল টুল ও এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এই পেশাগুলোর কিছু দায়িত্ব কমে যেতে পারে বা নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংক টেলার
ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিস্তারের কারণে ব্যাংক টেলারের মতো প্রচলিত কাজের চাহিদা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ডব্লিউইএফ এই পেশাকে দ্রুত হ্রাস পাওয়া চাকরির তালিকায় রেখেছে।
পোস্টাল সার্ভিস
চিঠিপত্রের পরিবর্তে ই-মেইল, মেসেজিং ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যবহার বাড়ায় ডাকসেবা ক্লার্কদের মতো কাজের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা কমতে পারে।
প্রিন্টিং-সংক্রান্ত কাজ
ডিজিটাল কনটেন্ট ও অনলাইন প্রকাশনার বিস্তারের ফলে ছাপাখানা কর্মীদের মতো প্রচলিত পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
হিসাবরক্ষণ ও অডিটের কিছু কাজ
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষার অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ সফটওয়্যার ও এআই দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তাই এই পেশা পুরোপুরি বিলুপ্ত না হলেও এর কিছু রুটিন কাজের চাহিদা কমতে পারে এবং পেশাটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব বাড়বে। ডব্লিউইএফ-এর দ্রুত হ্রাস পাওয়া পেশার তালিকায় হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষকরাও রয়েছে।
চাকরি কমবে, নাকি বদলে যাবে?
চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এখানেই। এআই কোনো একটি পেশার কিছু কাজ করে ফেলতে পারলেই পুরো পেশাটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না।
আইএলও-এর ২০২৫ সালের গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান কোনো না কোনো মাত্রায় জেনএআই-এর প্রভাবে পড়তে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফল হলো কাজের রূপান্তর, অর্থাৎ কর্মীর কাজের ধরন বদলে যাওয়া—পুরোপুরি চাকরি হারানো নয়।
উদাহরণ হিসেবে একজন হিসাবরক্ষকের কিছু ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ এআই করতে পারলেও আর্থিক সিদ্ধান্ত, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, জটিল সমস্যা সমাধান ও ব্যবসায়িক পরামর্শের মতো কাজে মানুষের ভূমিকা থেকে যেতে পারে।
আগামী দিনের চাকরির জন্য কোন দক্ষতা জরুরি?
চাকরির বাজার বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে দক্ষতার চাহিদাও। ডব্লিউইএফ-এর হিসাবে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে একজন কর্মীর বর্তমান দক্ষতার গড়ে ৩৯ শতাংশ পরিবর্তিত বা অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রয়েছে—
- এআই ও বিগ ডেটা
- নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা
- প্রযুক্তিগত সাক্ষরতা
- বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা
- সৃজনশীল চিন্তা
- অভিযোজনক্ষমতা, নমনীয়তা ও চপলতা
- কৌতূহল ও আজীবন শেখার মানসিকতা
অর্থাৎ শুধু একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি শেখাই যথেষ্ট হবে না। প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তা কী?
বিশ্বের চাকরির বাজারের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে যারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বা ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের শুধু একটি ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত ও মানবিক—দুই ধরনের দক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এআই-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার বদলে এআই ব্যবহার করতে শেখাই হতে পারে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বড় সুবিধা। একই সঙ্গে ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য মানুষের দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
কারণ আগামী পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত ‘মানুষ বনাম মেশিন’ হবে না; বরং মানুষ ও মেশিন একসঙ্গে কীভাবে কাজ করবে—সেটিই হবে চাকরির বাজারের নতুন বাস্তবতা।
/এবি/

পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
যে ১০ চাকরির চাহিদা সবচেয়ে বেশি
অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সারের ব্যর্থতার নেপথ্যে ৩ প্রধান কারণ
ফ্রিল্যান্সিংয়ে যে ৫ বিষয়ের চাহিদা সবেচেয়ে বেশি
জিরো থেকে ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে শুরু করবেন, সফলে কার্যকর কৌশল কী







