শিরোনাম

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩০

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩০
আজাদ কাশ্মীরে বিক্ষোভের আগে টহল দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে চলা আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে গত দুই দিনে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) অভিযোগ করেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে ২৫ জন এবং মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আরও পাঁচজন নিহত হন।

মূলত নির্বাচনি সংস্কার এবং ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে এসে পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্দোলনকারীদের মতে, এই সংরক্ষিত আসনগুলোকে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক রাজনীতিকে অস্থিতিশীল রাখে এবং নিজেদের অসংগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। জেএএসি-এর মুখপাত্র এস এ খান অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার মিরপুরে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর পর প্রামাণ্য চিত্র গোপন করতে নিহতদের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে গেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার ও প্রতিশোধের আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা থমথমে পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।

তবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার গুলির অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। দেশের তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারার দাবি করেছেন, কাশ্মীরের এ বিক্ষোভের পেছনে ভারতের অর্থায়ন ও উসকানি রয়েছে। সরকারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে জেএএসি বলেছে, নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের কথা বললেই সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রবিরোধী বা ভারতের দালাল বানিয়ে দেওয়ার পুরোনো কৌশল ব্যবহার করছে সরকার। পুরো এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এবং সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা। অ্যামনেস্টি অনতিবিলম্বে ব্ল্যাকআউট তুলে নিয়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার বলপ্রয়োগের ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সেখানে স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও সংবাদকর্মীদের যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/