গবাদি পশু সংকট, গাজায় টানা তৃতীয় বছরের মতো বন্ধ কোরবানি উৎসব

গবাদি পশু সংকট, গাজায় টানা তৃতীয় বছরের মতো বন্ধ কোরবানি উৎসব
সিটিজেন ডেস্ক

ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও কঠোর অবরোধের মুখে গাজা উপত্যকার প্রাণিসম্পদ খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অবরুদ্ধ এ ছিটমহলের ফিলিস্তিনিরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার ঐতিহ্যবাহী কোরবানি পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।গাজায় কোনো জীবন্ত পশু প্রবেশ করতে না দেওয়ায় এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ায় বাজারে গবাদি পশুর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট অল্প কিছু পশুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গাজা শহরের অন্যতম প্রধান পশু পালনকারী মাজেন আল-জেরজাওয়ি আগে প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করলেও, বর্তমানে তার কাছে একটিও পশু নেই। বাধ্য হয়ে তিনি এখন একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন এবং ছিটমহলে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে যে ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার, তা এখন আকাশচুম্বী হয়ে ৭,০০০ ডলারে ঠেকেছে। গবাদি পশুর এ চরম দুষ্প্রাপ্যতার কারণে তিনি প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিদের গাজায় কোরবানি দেওয়ার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে হিমায়িত মাংস কেনা বা অন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
গাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা ও পণ্য চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এ খাতের বিপর্যয় ঘটেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, গত নভেম্বর নাগাদ গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে। এর আগে গাজা প্রতি বছর ঈদের চাহিদা মেটাতে ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ ভেড়া ও ছাগল আমদানি করত। কিন্তু বর্তমানে গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধের আগের ৬০,০০০ ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা কমে মাত্র ৩,০০০-এ দাঁড়িয়েছে এবং গরু বা অন্যান্য গবাদি পশু প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া জানিয়েছেন, জীবিত থাকা সামান্য কিছু পশুও যাযাবর পশুপালকদের কাছে রয়েছে, যা ঈদের বাজারে মিলবে না। এছাড়া পানির কূপ সচল করতে না পারায় এ খাত পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
পশুপালকরা জানান, তীব্র সংকটের মুখে তারা পশুদের পাস্তাসহ হাতের কাছে যা পেয়েছেন তা-ই খাইয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ এবং বারবার জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির কারণে তারা নিজেদের জীবন ও পরিবার রক্ষার তাগিদে অত্যন্ত কম দামে বা দ্রুত জবাই করে পশুগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এ ধ্বংসযজ্ঞ কেবল খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাই বাড়ায়নি, বরং পশুচিকিৎসক, কসাই ও রেস্তোরাঁ মালিকসহ এইখাতের সঙ্গে জড়িত একটি বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
গাজা শহরের স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবুরিয়ালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোরবানি এবং তা ভাগাভাগি করার সামর্থ্য না থাকায় তাদের কাছে ঈদ এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। সীমান্ত পারাপারের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে পণ্যের দাম তীব্রভাবে ওঠানামা করছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ ও সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও কঠোর অবরোধের মুখে গাজা উপত্যকার প্রাণিসম্পদ খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অবরুদ্ধ এ ছিটমহলের ফিলিস্তিনিরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার ঐতিহ্যবাহী কোরবানি পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।গাজায় কোনো জীবন্ত পশু প্রবেশ করতে না দেওয়ায় এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ায় বাজারে গবাদি পশুর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট অল্প কিছু পশুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গাজা শহরের অন্যতম প্রধান পশু পালনকারী মাজেন আল-জেরজাওয়ি আগে প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করলেও, বর্তমানে তার কাছে একটিও পশু নেই। বাধ্য হয়ে তিনি এখন একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন এবং ছিটমহলে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে যে ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার, তা এখন আকাশচুম্বী হয়ে ৭,০০০ ডলারে ঠেকেছে। গবাদি পশুর এ চরম দুষ্প্রাপ্যতার কারণে তিনি প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিদের গাজায় কোরবানি দেওয়ার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে হিমায়িত মাংস কেনা বা অন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
গাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা ও পণ্য চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এ খাতের বিপর্যয় ঘটেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, গত নভেম্বর নাগাদ গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে। এর আগে গাজা প্রতি বছর ঈদের চাহিদা মেটাতে ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ ভেড়া ও ছাগল আমদানি করত। কিন্তু বর্তমানে গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধের আগের ৬০,০০০ ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা কমে মাত্র ৩,০০০-এ দাঁড়িয়েছে এবং গরু বা অন্যান্য গবাদি পশু প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া জানিয়েছেন, জীবিত থাকা সামান্য কিছু পশুও যাযাবর পশুপালকদের কাছে রয়েছে, যা ঈদের বাজারে মিলবে না। এছাড়া পানির কূপ সচল করতে না পারায় এ খাত পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
পশুপালকরা জানান, তীব্র সংকটের মুখে তারা পশুদের পাস্তাসহ হাতের কাছে যা পেয়েছেন তা-ই খাইয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ এবং বারবার জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির কারণে তারা নিজেদের জীবন ও পরিবার রক্ষার তাগিদে অত্যন্ত কম দামে বা দ্রুত জবাই করে পশুগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এ ধ্বংসযজ্ঞ কেবল খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাই বাড়ায়নি, বরং পশুচিকিৎসক, কসাই ও রেস্তোরাঁ মালিকসহ এইখাতের সঙ্গে জড়িত একটি বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
গাজা শহরের স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবুরিয়ালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোরবানি এবং তা ভাগাভাগি করার সামর্থ্য না থাকায় তাদের কাছে ঈদ এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। সীমান্ত পারাপারের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে পণ্যের দাম তীব্রভাবে ওঠানামা করছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ ও সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

গবাদি পশু সংকট, গাজায় টানা তৃতীয় বছরের মতো বন্ধ কোরবানি উৎসব
সিটিজেন ডেস্ক

ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও কঠোর অবরোধের মুখে গাজা উপত্যকার প্রাণিসম্পদ খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অবরুদ্ধ এ ছিটমহলের ফিলিস্তিনিরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার ঐতিহ্যবাহী কোরবানি পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।গাজায় কোনো জীবন্ত পশু প্রবেশ করতে না দেওয়ায় এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ায় বাজারে গবাদি পশুর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট অল্প কিছু পশুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গাজা শহরের অন্যতম প্রধান পশু পালনকারী মাজেন আল-জেরজাওয়ি আগে প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করলেও, বর্তমানে তার কাছে একটিও পশু নেই। বাধ্য হয়ে তিনি এখন একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন এবং ছিটমহলে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে যে ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার, তা এখন আকাশচুম্বী হয়ে ৭,০০০ ডলারে ঠেকেছে। গবাদি পশুর এ চরম দুষ্প্রাপ্যতার কারণে তিনি প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিদের গাজায় কোরবানি দেওয়ার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে হিমায়িত মাংস কেনা বা অন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
গাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা ও পণ্য চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এ খাতের বিপর্যয় ঘটেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, গত নভেম্বর নাগাদ গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে। এর আগে গাজা প্রতি বছর ঈদের চাহিদা মেটাতে ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ ভেড়া ও ছাগল আমদানি করত। কিন্তু বর্তমানে গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধের আগের ৬০,০০০ ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা কমে মাত্র ৩,০০০-এ দাঁড়িয়েছে এবং গরু বা অন্যান্য গবাদি পশু প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া জানিয়েছেন, জীবিত থাকা সামান্য কিছু পশুও যাযাবর পশুপালকদের কাছে রয়েছে, যা ঈদের বাজারে মিলবে না। এছাড়া পানির কূপ সচল করতে না পারায় এ খাত পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
পশুপালকরা জানান, তীব্র সংকটের মুখে তারা পশুদের পাস্তাসহ হাতের কাছে যা পেয়েছেন তা-ই খাইয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ এবং বারবার জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির কারণে তারা নিজেদের জীবন ও পরিবার রক্ষার তাগিদে অত্যন্ত কম দামে বা দ্রুত জবাই করে পশুগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এ ধ্বংসযজ্ঞ কেবল খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাই বাড়ায়নি, বরং পশুচিকিৎসক, কসাই ও রেস্তোরাঁ মালিকসহ এইখাতের সঙ্গে জড়িত একটি বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
গাজা শহরের স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবুরিয়ালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোরবানি এবং তা ভাগাভাগি করার সামর্থ্য না থাকায় তাদের কাছে ঈদ এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। সীমান্ত পারাপারের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে পণ্যের দাম তীব্রভাবে ওঠানামা করছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ ও সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

গাজার নতুন সঙ্কট ইঁদুরবাহী রোগ, আক্রান্ত ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের সারি


