শিরোনাম

গাজার নতুন সঙ্কট ইঁদুরবাহী রোগ, আক্রান্ত ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ

সিটিজেন ডেস্ক
গাজার নতুন সঙ্কট ইঁদুরবাহী রোগ, আক্রান্ত ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ
গাজার নতুন সঙ্কট ইঁদুরবাহী রোগ। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইঁদুর ও ক্ষতিকর পরজীবীর উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট তীব্র মানবিক সংকটের মাঝে এটি নতুন এক বিপর্যয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে গাজায় ইঁদুর ও পরজীবীর বংশবৃদ্ধি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে নিয়োজিত ইউএনআরডব্লিউএর শত শত স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ চর্মরোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে উপত্যকাটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট থাকায় আক্রান্তদের সবাইকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গাজায় বড় পরিসরে চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করতে দেওয়া হলে এ পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যেত বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। এর মাঝে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬০২ জন।

চুক্তি অনুযায়ী গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল অনবরত সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। এর ফলে গাজার প্রায় ২৪ লাখ বাসিন্দা চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষই বর্তমানে বাস্তুচ্যুত জীবনযাপন করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/