শিরোনাম

দ্রুত সমঝোতার আশায় ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
দ্রুত সমঝোতার আশায় ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা সম্ভব হলে আপাতত দেশটিতে নতুন করে সামরিক হামলা চালাবেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য ওই সমঝোতার মূল বিষয় হবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।

শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ তাকে ‘কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ’ জানিয়েছে, যাতে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়। তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। তবে দ্রুত একটি চুক্তি হতে হবে।’

এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইসরায়েল একমত বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনেই ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ভয়াবহ আঘাত হানবে’ এবং একপর্যায়ে ইরান ‘আর সহ্য করতে পারবে না’।

ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর এতটাই ভয়াবহ হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত (লকড অ্যান্ড লোডেড) ছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।

অন্যদিকে অ্যাক্সিওস খবর দেয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পকে ফোন করে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করা পশ্চিম এশিয়ার যে কোনো দেশ ‘যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হবে।’

এদিকে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। সতর্কবার্তায় বলা হয়, পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে দ্রুত এলাকা ছাড়ার জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

/এফসি/