যুদ্ধের প্রস্তুতি বনাম শান্তি আলোচনা: মার্কিন-ইরান সংঘাত কি আবারও শুরু হচ্ছে

যুদ্ধের প্রস্তুতি বনাম শান্তি আলোচনা: মার্কিন-ইরান সংঘাত কি আবারও শুরু হচ্ছে
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। কিন্তু কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন তারা নতুন করে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত।

আলোচনার বর্তমান অবস্থা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি দুই দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আরাঘচি আরও জানান, তার একজন সহযোগীসহ একটি ইরানি প্রতিনিধিদল কাতার সফর করেছে। এর আগে কাতারি কর্মকর্তারাও তেহরান গিয়েছিলেন। তিনি জানান, দোহায় আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং শান্তি আলোচনা শুরুর শর্তাবলী। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জুনে দেওয়া তেল ছাড় পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলাসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা।
এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও মধ্যস্থতা করছে। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বেশ কয়েকবার তেহরান সফর করেছেন। জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও দোহা ও ইসলামাবাদ ভূমিকা রেখেছিল। যদিও আগস্টে সেটি ভেস্তে যায়।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানতে ‘প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে’। যদিও ওয়াশিংটন তা নিশ্চিত করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা বলেন, একাধিক আলোচনা চলছে। আলোচনা আসলে কখনোই থামেনি। যদি কোনো কূটনৈতিক সমাধান থাকে, আমরা তা গ্রহণে আগ্রহী থাকব।

যুক্তরাষ্ট্র কেন সুর পরিবর্তন করেছে
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রেজাইকে একটি চিঠি পাঠান, যা নতুন এ আলোচনার পথ তৈরি করেছে। চিঠিতে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। রেজাই জানান, ট্রাম্পের আগের চিঠিপত্রের তুলনায় ভ্যান্সের চিঠির সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আরাঘচি চিঠিটিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, আরও ব্যাপক পরিসরে সংলাপ ও বোঝাপড়ার দরজা খুলে দেওয়ার মার্কিন পক্ষের প্রচেষ্টা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এ চিঠি পাঠানোর পেছনে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য যদি বিভেদ উস্কে দেওয়া হয়, তবে এটি তাদের আরও একটি ভুল।

শান্তি ও যুদ্ধ নিয়ে যা বলছে ইরান
কূটনীতির পাশাপাশি নতুন সামরিক সংঘাতের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে ইরান। আরাঘচি বলেন, আমি জানি যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত এবং আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নতুন সামরিক হুমকির জবাব হবে ‘তাৎক্ষণিক’ এবং ‘কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’। তিনি কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর মালিকানাধীন সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদ’ ইরানের লক্ষ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে।
এদিকে রেজাই জানান, হামলা হলে তারা ‘নতুন অস্ত্র’ ব্যবহার করবেন এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নিজেদের ‘পারমাণবিক মতবাদে’ পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থা
শান্তি আলোচনার অবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, আলোচনা ভালোভাবেই চলছে, তবে তা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এখনও ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুর ব্যবস্থা নিতে হবে, যার মধ্যে পিক্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি অন্যতম।
ট্রাম্প বলেন, তারা সামরিক লক্ষ্য খুব দ্রুত অর্জন করতে পারেন এবং এ নিয়ে তাদের তাড়াহুড়ো নেই। তবে এর আগে তিনি ইরানকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর স্বল্পমেয়াদী ও তীব্র সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রুবিও জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

ইসরায়েলের ভূমিকা কী হবে
ইসরায়েলও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে নির্মূল করার জন্য ইসরায়েলের কাছে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর জোটে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ জানান, নেতানিয়াহুর এ হুমকি ইরানের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি হলেও ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি থেকে যায়। ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে- এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তাদের প্রস্তুতি চলছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির কারণ
কূটনীতি এবং সামরিক প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলছে। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইরান একটি চুক্তির পক্ষে, তবে ভিন্ন নিয়মে এবং বিস্তৃত রণক্ষেত্রের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন এ সতর্কবার্তাগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক হিসেবে গ্রহণ করে, নাকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার হুমকি হিসেবে দেখে, সেটি পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পকে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ইরানকে সময় নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের পর এ হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কমে গেলে ওয়াশিংটন যেমন হামলা চালাতে আগ্রহী হতে পারে, ঠিক তেমনি ইরানও আপস করতে আরও ইচ্ছুক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। কিন্তু কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন তারা নতুন করে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত।

আলোচনার বর্তমান অবস্থা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি দুই দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আরাঘচি আরও জানান, তার একজন সহযোগীসহ একটি ইরানি প্রতিনিধিদল কাতার সফর করেছে। এর আগে কাতারি কর্মকর্তারাও তেহরান গিয়েছিলেন। তিনি জানান, দোহায় আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং শান্তি আলোচনা শুরুর শর্তাবলী। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জুনে দেওয়া তেল ছাড় পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলাসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা।
এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও মধ্যস্থতা করছে। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বেশ কয়েকবার তেহরান সফর করেছেন। জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও দোহা ও ইসলামাবাদ ভূমিকা রেখেছিল। যদিও আগস্টে সেটি ভেস্তে যায়।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানতে ‘প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে’। যদিও ওয়াশিংটন তা নিশ্চিত করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা বলেন, একাধিক আলোচনা চলছে। আলোচনা আসলে কখনোই থামেনি। যদি কোনো কূটনৈতিক সমাধান থাকে, আমরা তা গ্রহণে আগ্রহী থাকব।

যুক্তরাষ্ট্র কেন সুর পরিবর্তন করেছে
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রেজাইকে একটি চিঠি পাঠান, যা নতুন এ আলোচনার পথ তৈরি করেছে। চিঠিতে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। রেজাই জানান, ট্রাম্পের আগের চিঠিপত্রের তুলনায় ভ্যান্সের চিঠির সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আরাঘচি চিঠিটিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, আরও ব্যাপক পরিসরে সংলাপ ও বোঝাপড়ার দরজা খুলে দেওয়ার মার্কিন পক্ষের প্রচেষ্টা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এ চিঠি পাঠানোর পেছনে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য যদি বিভেদ উস্কে দেওয়া হয়, তবে এটি তাদের আরও একটি ভুল।

শান্তি ও যুদ্ধ নিয়ে যা বলছে ইরান
কূটনীতির পাশাপাশি নতুন সামরিক সংঘাতের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে ইরান। আরাঘচি বলেন, আমি জানি যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত এবং আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নতুন সামরিক হুমকির জবাব হবে ‘তাৎক্ষণিক’ এবং ‘কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’। তিনি কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর মালিকানাধীন সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদ’ ইরানের লক্ষ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে।
এদিকে রেজাই জানান, হামলা হলে তারা ‘নতুন অস্ত্র’ ব্যবহার করবেন এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নিজেদের ‘পারমাণবিক মতবাদে’ পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থা
শান্তি আলোচনার অবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, আলোচনা ভালোভাবেই চলছে, তবে তা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এখনও ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুর ব্যবস্থা নিতে হবে, যার মধ্যে পিক্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি অন্যতম।
ট্রাম্প বলেন, তারা সামরিক লক্ষ্য খুব দ্রুত অর্জন করতে পারেন এবং এ নিয়ে তাদের তাড়াহুড়ো নেই। তবে এর আগে তিনি ইরানকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর স্বল্পমেয়াদী ও তীব্র সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রুবিও জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

ইসরায়েলের ভূমিকা কী হবে
ইসরায়েলও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে নির্মূল করার জন্য ইসরায়েলের কাছে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর জোটে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ জানান, নেতানিয়াহুর এ হুমকি ইরানের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি হলেও ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি থেকে যায়। ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে- এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তাদের প্রস্তুতি চলছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির কারণ
কূটনীতি এবং সামরিক প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলছে। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইরান একটি চুক্তির পক্ষে, তবে ভিন্ন নিয়মে এবং বিস্তৃত রণক্ষেত্রের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন এ সতর্কবার্তাগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক হিসেবে গ্রহণ করে, নাকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার হুমকি হিসেবে দেখে, সেটি পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পকে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ইরানকে সময় নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের পর এ হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কমে গেলে ওয়াশিংটন যেমন হামলা চালাতে আগ্রহী হতে পারে, ঠিক তেমনি ইরানও আপস করতে আরও ইচ্ছুক হতে পারে।

যুদ্ধের প্রস্তুতি বনাম শান্তি আলোচনা: মার্কিন-ইরান সংঘাত কি আবারও শুরু হচ্ছে
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। কিন্তু কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন তারা নতুন করে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত।

আলোচনার বর্তমান অবস্থা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি দুই দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আরাঘচি আরও জানান, তার একজন সহযোগীসহ একটি ইরানি প্রতিনিধিদল কাতার সফর করেছে। এর আগে কাতারি কর্মকর্তারাও তেহরান গিয়েছিলেন। তিনি জানান, দোহায় আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং শান্তি আলোচনা শুরুর শর্তাবলী। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জুনে দেওয়া তেল ছাড় পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলাসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা।
এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও মধ্যস্থতা করছে। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বেশ কয়েকবার তেহরান সফর করেছেন। জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও দোহা ও ইসলামাবাদ ভূমিকা রেখেছিল। যদিও আগস্টে সেটি ভেস্তে যায়।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানতে ‘প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে’। যদিও ওয়াশিংটন তা নিশ্চিত করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা বলেন, একাধিক আলোচনা চলছে। আলোচনা আসলে কখনোই থামেনি। যদি কোনো কূটনৈতিক সমাধান থাকে, আমরা তা গ্রহণে আগ্রহী থাকব।

যুক্তরাষ্ট্র কেন সুর পরিবর্তন করেছে
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রেজাইকে একটি চিঠি পাঠান, যা নতুন এ আলোচনার পথ তৈরি করেছে। চিঠিতে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। রেজাই জানান, ট্রাম্পের আগের চিঠিপত্রের তুলনায় ভ্যান্সের চিঠির সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আরাঘচি চিঠিটিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, আরও ব্যাপক পরিসরে সংলাপ ও বোঝাপড়ার দরজা খুলে দেওয়ার মার্কিন পক্ষের প্রচেষ্টা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এ চিঠি পাঠানোর পেছনে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য যদি বিভেদ উস্কে দেওয়া হয়, তবে এটি তাদের আরও একটি ভুল।

শান্তি ও যুদ্ধ নিয়ে যা বলছে ইরান
কূটনীতির পাশাপাশি নতুন সামরিক সংঘাতের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে ইরান। আরাঘচি বলেন, আমি জানি যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত এবং আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নতুন সামরিক হুমকির জবাব হবে ‘তাৎক্ষণিক’ এবং ‘কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’। তিনি কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর মালিকানাধীন সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদ’ ইরানের লক্ষ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে।
এদিকে রেজাই জানান, হামলা হলে তারা ‘নতুন অস্ত্র’ ব্যবহার করবেন এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নিজেদের ‘পারমাণবিক মতবাদে’ পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থা
শান্তি আলোচনার অবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, আলোচনা ভালোভাবেই চলছে, তবে তা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এখনও ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুর ব্যবস্থা নিতে হবে, যার মধ্যে পিক্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি অন্যতম।
ট্রাম্প বলেন, তারা সামরিক লক্ষ্য খুব দ্রুত অর্জন করতে পারেন এবং এ নিয়ে তাদের তাড়াহুড়ো নেই। তবে এর আগে তিনি ইরানকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর স্বল্পমেয়াদী ও তীব্র সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রুবিও জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

ইসরায়েলের ভূমিকা কী হবে
ইসরায়েলও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে নির্মূল করার জন্য ইসরায়েলের কাছে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর জোটে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ জানান, নেতানিয়াহুর এ হুমকি ইরানের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি হলেও ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি থেকে যায়। ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে- এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তাদের প্রস্তুতি চলছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির কারণ
কূটনীতি এবং সামরিক প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলছে। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইরান একটি চুক্তির পক্ষে, তবে ভিন্ন নিয়মে এবং বিস্তৃত রণক্ষেত্রের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন এ সতর্কবার্তাগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক হিসেবে গ্রহণ করে, নাকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার হুমকি হিসেবে দেখে, সেটি পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পকে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ইরানকে সময় নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের পর এ হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কমে গেলে ওয়াশিংটন যেমন হামলা চালাতে আগ্রহী হতে পারে, ঠিক তেমনি ইরানও আপস করতে আরও ইচ্ছুক হতে পারে।









