২০১৮ সালে বরাদ্দ দেওয়া ৯টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বাতিল করলো রাজউক

২০১৮ সালে বরাদ্দ দেওয়া ৯টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বাতিল করলো রাজউক
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০১৮ সালে বরাদ্দ দেওয়া নয়টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের বরাদ্দ বাতিল করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। দীর্ঘ আট বছরেও এসব প্লটের সাময়িক বরাদ্দপত্র না পাওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি প্লট বরাদ্দ হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। গত ১৯ অক্টোবর রাজউকের ২৪তম বোর্ড সভায় প্রতিষ্ঠানিক প্লটগুলোর সাময়িক নির্বাচনপত্র বাতিলের এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূইয়া, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহীনুর আলম এবং সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছা. লুৎফুন নাহার নাজীম।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচলে প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাদের নামে সাময়িক নির্বাচন পত্রও জারি করে রাজউক। ওই সময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান ছিলেন মো. আব্দুর রহমান। তবে পরবর্তী সময়ে সাময়িক বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট চারটি ক্যাটাগরিতে প্লটের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে প্লট দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানায় সংস্থাটি। তবে এসব প্লটের সাময়িক নির্বাচন পত্র পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো জামানত রাজউকের কোষাগারে জমা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্লট বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংক্ষুব্ধরা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা সন্দেহ, বরাদ্দ বাতিল হওয়া এসব প্লট ওপর মহলের কেউ বাগিয়ে নিতে পারেন। তারা এসব প্লট পরে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয় তাও নজর রাখার দাবি করেন।

বাতিল হওয়া নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো- হকস বে অটোমোবাইল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, গ্রেগরিয়ান অ্যালামনি ক্লাব লিমিটেড, পূর্বাচল স্পোর্টস ওয়েলনেস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব, ডেটেক্স কনভেনশন সেন্টার, হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার সাপোর্ট ফাউন্ডেশন, স্টাফ কলেজ (অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড), বিসিডিজেসি মিডিয়া ইনস্টিটিউট অ্যান্ড মিউজিয়াম, ডিবি টেকনোলজিস এবং প্রিটি ইউনিভার্সিটি। এ ছাড়া সাময়িক নির্বাচনপত্র জারি করা আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দপত্র পরবর্তী বোর্ড সভায় বাতিল করার জন্য সুপারিশ করা হবে বলে জানা গেছে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজউক জানায়, পূর্বাচল প্রকল্পের লে-আউটের চতুর্থ সংশোধনীতে ইউনিভার্সিটি ক্যাটাগরিতে প্লট রয়েছে মাত্র তিনটি। অথচ এ ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে। ইনস্টিটিউট ক্যাটাগরিতে ১১টি প্লটের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২টি প্রতিষ্ঠানকে। এসআইএস ক্যাটাগরিতে ৩৭টি প্লটের বিপরীতে ৪৯টি এবং হাসপাতাল ক্যাটাগরিতে ২৮টি প্লটের বিপরীতে ৪৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ চার ক্যাটাগরিতেই নির্ধারিত প্লটের চেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে এসব ক্যাটাগরিতে প্লট দেওয়ার মতো জায়গা খালি নেই। এ ছাড়া ২০১৩ সালের একটি রিট মামলায় আদালতের অনুমতি ছাড়া পূর্বাচল প্রকল্পের লে-আউট বা প্লটের ক্যাটাগরি পরিবর্তন না করার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে অন্য ক্যাটাগরি থেকে প্লট এনে এসব প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়ারও সুযোগ নেই।