শিরোনাম

নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

সিটিজেন ডেস্ক
নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: গেটি ইমেজ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের অন্তত ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের ভবনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। দূতাবাস এক বার্তায় বলেছে, “এখনই ইরাক ছেড়ে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।” যারা দেশটিতে থাকবেন, তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান-সম্পর্কিত সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কারণে সেখানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ওমান থেকেও জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে তিনি সহযোগী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশকে এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে যাওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত নন। বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালী তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিরোধ বা ধ্বংস করা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের আহ্বানে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে জাপান এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকেকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি সতর্কভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের মধ্যপ্রাচ্যগামী অভিযানে সুইজারল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহারের দুটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুইস সরকার। দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিরপেক্ষতার নীতির কারণে যুদ্ধসংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে ইরাকে গত ১২ মার্চ সামরিক জ্বালানিবাহী একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় মার্কিন সেনা সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। নিহতরা কেসি-১৩৫ জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিমানের ক্রু ছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

এর মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জানি না সে আদৌ বেঁচে আছে কি না। এখন পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।” তবে পরে তিনি তার মৃত্যুর খবরকে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন।

/এমআর/