নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েও বেঁচে গেলেন ঢাবি শিক্ষার্থী

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েও বেঁচে গেলেন ঢাবি শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সন্তোষ ভবনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওই শিক্ষার্থী এই টিনের ঘরের চালের ওপর পড়েন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সন্তোষ ভবনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। তবে ভবনের পাশে থাকা একটি টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও সহপাঠীরা।

রবিবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা তার পাশে রয়েছেন। তার একটি পা কিছুটা ফুলে আছে। মাথার একটি অংশে ঘষা লেগে ক্ষত হওয়ায় সেখানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

চিকিৎসায় যুক্ত একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তার শরীরে গুরুতর কোনো শারীরিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথ হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পল্লব বর্মন বলেন, আহত শিক্ষার্থীর এক্স-রে, ইসিজি ও এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল এখন পর্যন্ত ভালো। তার শরীরের কোথাও হাড় ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন কর্মচারীরা

ঘটনার সময় জগন্নাথ হলের কয়েকজন কর্মচারী হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। বাইরে এসে তারা ভবনের পাশের টিনশেড ঘরের চালে ওই শিক্ষার্থীকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে কর্মচারী ও কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে তাকে সেখান থেকে নামিয়ে আনেন। এরপর দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, টিনশেডের চালে পড়ার কারণেই বড় ধরনের আঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন

শিক্ষার্থীটি কেন নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন, সে বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কয়েকজন সহপাঠী জানিয়েছেন, তিনি কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন। তবে এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

হলসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রও জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত কোনো বিষয় থেকে তিনি মানসিক চাপে থাকতে পারেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বলেন, ‘আমরা শুনেছি, ব্যক্তিগত কিছু কারণ ও মানসিক চাপ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই শিক্ষার্থী পুরোপুরি সুস্থ হলে তার কাছ থেকেই পুরো বিষয়টি জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সে অনেকটাই সুস্থ আছে। তার শরীরে গুরুতর কোনো ক্ষত পাওয়া যায়নি।’

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান হলের প্রাধ্যক্ষ।

/এমআর/