
সিটিজেন ডেস্ক


ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নিহত শীর্ষ সামরিক কমাণ্ডার ও বিজ্ঞানীদের জনানাজা ও রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের সড়কগুলোতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে।
ইরানের রাজধানীতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
অনেকে কালো পোশাক পরিহিত অবস্থায় শোকর্যালি, ফুল ও পতাকা নিয়ে শামে-রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা তীব্র হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী পশ্চিম ও পূর্ব তেহরানের কিছু এলাকায় বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং আকাশে জেট বিমান উড়ন্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
এই হামলার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একইসঙ্গে তেহরান ও লেবাননের বিভিন্ন শহরে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছি বলে জানায়।
সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করতে হবে, নইলে তা পুরো অঞ্চলকে আগুনে পুড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
বুধবার (১১ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আরও বড় আকার নেওয়ার আগে এবং পুরো অঞ্চলকে আগুনে গ্রাস করার আগে এটি অবশ্যই থামাতে হবে।’
এরদোয়ান সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি আরও বাড়বে। একইসঙ্গে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আরও বেশি পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭০ জন নিহত এবং ১,৪৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল একদিনেই ৮৪ জন নিহত এবং আরও ১৩১ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধকালীন চোটে আহত হয়েছেন। তবে বর্তমানে ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান।
বুধবার (১১ মার্চ) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইউসেফ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছিলাম যে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তার আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। এর পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই এই খবর এল।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিনই মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম এলাকার দক্ষিণে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে রকেট হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটি বলেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা বারবার হামলা চালিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ বাড়ার মধ্যেই এসব হামলার দাবি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খিয়ামকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা ও বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে, যার ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মোকাবিলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আকাশে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ফল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রমের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলার পরিধি বাড়ছে, যার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে– এমন আশঙ্কার মধ্যে দেশটির কর্মকর্তারা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে পূরণ করা যায় তা নিয়ে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল জাজিরার।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ অনুষদের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফুয়াদ ইজাদি আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলের অংশ হিসেবে দেশটির তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাতে পারে।
তিনি বলেন, ইরানি নেতারা মনে করেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষতি হচ্ছে তার প্রতিটি পয়সা শেষ পর্যন্ত দায়ীদের কাছ থেকেই আদায় করা উচিত।
ইজাদি জানান, ইরানে কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি হলো– যুদ্ধের ক্ষতি পূরণে একটি আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা, যেখানে এই ক্ষতির জন্য দায়ী দেশগুলোকে অর্থ দিতে হবে।
আরেকটি ধারণা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করে তাদের ওপর কর আরোপ করা।
তার ভাষায়, ‘ইরান অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর অন্যরা স্বাভাবিকভাবে সুবিধা ভোগ করবে– এ ধারণা আর গ্রহণযোগ্য নয়।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উত্তর উপকূলে হামলায় একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
বুধবার (১১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে ইউকেএমটিও জানায়, ‘সন্দেহজনক তবে অজ্ঞাত একটি বস্তুর’ আঘাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছেন জাহাজের কর্মীরা।
ইউকেএমটিও আরও জানিয়েছে, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। জাহাজের সব ক্রু নিরাপদ রয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন