শিরোনাম

ওমানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

সিটিজেন ডেস্ক
ওমানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে 'উড়িয়ে দেওয়ার' হুমকি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) মন্ত্রিসভার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কোনো একক দেশ এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। টোল আদায়ের বিষয়ে তেহরান ও মাস্কাটের সম্ভাব্য আঁতাতের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক চরম বার্তায় তিনি বলেন, ওমানকে সবার মতো সঠিক আচরণ করতে হবে, অন্যথায় দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি জানান, এ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ হওয়ায় এর ওপর ওয়াশিংটন কড়া নজর রাখলেও কাউকে এর নিয়ন্ত্রক হতে দেওয়া হবে না। তবে ট্রাম্পের এ আক্রমণাত্মক মন্তব্য নিছকই ভুলবশত বলা কোনো কথা কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ওমানের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, তেহরান এ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের একটি ব্যবস্থায় সমর্থন দিতে ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। অথচ ৫৩ লাখ মানুষের দেশ ওমানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেমন কয়েক দশকের গভীর সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি চলমান যুদ্ধে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করে আসছে। এমনকি সংঘাতের জেরে ওমান নিজেও তেহরানের হামলার শিকার হয়েছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চেষ্টাও এখন পর্যন্ত কোনো আলোর মুখ দেখেনি। বুধবার (২৭ মে) বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ইরান ইচ্ছে করেই চুক্তিটি বিলম্বিত করে তাকে রাজনৈতিকভাবে পেছনে ফেলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প যখন চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তকে যারা জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন, তারা এখন সম্ভাব্য চুক্তির খবরে ক্ষুব্ধ। সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে গুজব ওঠা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমনটা হলে অপারেশন এপিক ফিউরি এর মাধ্যমে অর্জিত সমস্ত সাফল্যই একেবারে বৃথা হয়ে যাবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/