
সিটিজেন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে।
দুই নেতার এই আলোচনায় ইসলামাবাদে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাকাইচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও জাপানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো সুরক্ষিত থাকবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ব্যাপারে ইসলামাবাদ আগ্রহী। বিবৃতিতে বলা হয়, তাকাইচি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক আলোচনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের ও নিবিড় আলোচনার পরও দুই দেশ একটি সম্ভাব্য ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দূরত্বে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, আলোচনাগুলো ছিল অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বিভিন্ন সময় চরমপন্থী অবস্থান, লক্ষ্য পরিবর্তন এবং নিষেধাজ্ঞাজনিত বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি উল্লেখ করেন, এসব প্রতিকূলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সহজ হয়নি। তার ভাষায়, আলোচনার পথ কখনোই সরল ছিল না এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সদিচ্ছা থাকলে তার প্রতিফলনও ইতিবাচক হয়। ‘সদিচ্ছা সদিচ্ছার জন্ম দেয়, আর শত্রুতা শত্রুতাকেই বাড়িয়ে তোলে।’
সূত্র: আল জাজিরা

রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ জানিয়েছেন, সমালোচনা বা রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রেক্ষিতেও তিনি শান্তির পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন বলে স্পষ্ট করেছেন।
পোপ আরও বলেন, খ্রিস্টীয় ধর্মের মূল বার্তাকে কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আলজিয়ার্স থেকে চারটি আফ্রিকান দেশে ১০ দিনের সফর শুরু করেছেন। সফরের শুরুতে আলজিয়ার্সগামী বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পোপ লিও বলেন, ‘আমি কারও সঙ্গে বিতর্কে জড়াতে চাই না। তবে আমি মনে করি, সুসমাচারের বার্তাকে যেভাবে কিছু মানুষ ব্যবহার করছে, তা সঠিক নয়।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলতে থাকব। শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংলাপ এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারি।’
পোপের মতে, চলমান সংঘাতগুলোতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ‘এত মানুষ মারা যাচ্ছে—এ অবস্থায় কারও না কারও সামনে এসে বলতে হবে, এর চেয়ে ভালো কোনো পথ অবশ্যই আছে।’
সূত্র: রয়টার্স
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং তা আগের চেয়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সর্বশেষ খবর অনুযায়ী লেবাননের বিভিন্ন শহরে চালানো হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি ভারী কামান থেকে গোলাবর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে ফসফরাস শেল ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত। হামলায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারও লক্ষ্য করা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে এবং তা সফল হয়েছে।
হিজবুল্লাহ আরও বলেছে, লেবানন ও এর জনগণের ওপর ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে আগ্রাসন চলছে, তা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা