শিরোনাম

মার্কিন সেনাদের কাছে থাকা মোবাইলের সুবিধা নিচ্ছে ইরান

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মার্কিন সেনাদের কাছে থাকা মোবাইলের সুবিধা নিচ্ছে ইরান
সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও বিপদ ডেকে আনছে মার্কিন বাহিনীর

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার জন্য এক নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেনাসদস্যদের অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিও ও ছবির মাধ্যমেই ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সাম্প্রতিক হামলার সফলতা সম্পর্কে অত্যন্ত নিখুঁত তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি সেনাদের সতর্ক করে এক বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি-ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইরান সহজেই তাদের অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে। সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তির জ্যামিং ব্যবস্থার কারণে শত্রুপক্ষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পেরেছে কি না। কিন্তু সেনাদের পোস্ট করা ভিডিও থেকে ইরান বিনা খরচেই জেনে যাচ্ছে যে হামলাটি খালি রানওয়েতে পড়েছে নাকি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।

সম্প্রতি জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় মেটার স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে মার্কিন সেনাদের দ্রুত বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট ছিল। অ্যাডমিরাল কুপার সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ভিডিও ও তথ্য শত্রুপক্ষকে তাদের দ্বিতীয় দফার হামলা আরও সুনির্দিষ্ট এবং প্রাণঘাতী করার সুযোগ দেয়। ফলে শুধু মার্কিন সেনাই নয়, এ অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের জীবনও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ নিরপত্তা ঝুঁকি এড়াতে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি স্থানে অবস্থানরত সেনাদের মোবাইল ফোন আপাতত জমা নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হলে স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দৈনন্দিন জীবনে বেশ চাপে পড়বেন সাধারণ সেনাসদস্যরা, যারা এতদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই স্মার্টফোনের ওপরই নির্ভর করতেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। স্মার্টফোনের লোকেশনভিত্তিক অ্যাপ আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তার ওপর সেনা হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এখন এ যুদ্ধ নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/