হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে সহায়তার ঘোষণা তুরস্কের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে সহায়তার ঘোষণা তুরস্কের
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় কোণঠাসা সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুথিদের চলমান আক্রমণের কারণে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন থাকতে পারে আর তেমন হলে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোকে তুরস্ক সাহায্য করতে প্রস্তুত।

গত মাসে মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানও। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হতে দেখছি। আমাদের চুক্তিতে একটি জোটবদ্ধতা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের সম্ভবত কিছু সামরিক চাহিদা আছে, বিশেষভাবে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে। এগুলো পূরণে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, এটি তারই একটি নতুন ফ্রন্ট বা বিস্তার। ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অংশগুলো নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাইয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকেই সৌদি ভূখণ্ডে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল নিশানায় রয়েছে সৌদি শহরগুলো, জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের জাহাজ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগরকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে তেল রপ্তানি করছিল রিয়াদ। এখন এ পথও হুমকির মুখে পড়ায় দেশটির তেল রপ্তানি একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব ওয়াশিংটনের সহায়তা চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর আগে গত বছর দুই মাস ধরে ইয়েমেনে হুথিদের ওপর বোমাবর্ষণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এ যুদ্ধের অংশ করে তোলাটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, কারণ এ সংঘাতে জড়ানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে রিয়াদের নেই। চলমান সংঘাত থামাতে ইতোমধ্যে সব পক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক জানিয়েছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি অন্য কোনো বিদ্যমান জোটকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং এটি যেকোনো দেশের জন্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত। পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদি আরবে হুথিদের হামলার জবাবে মক্কা চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে সময় এলে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/