ইয়েমেন সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত প্রায় দেড়লাখ মানুষ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইয়েমেন সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত প্রায় দেড়লাখ মানুষ
সংঘাতে ইয়েমেনে প্রায় দেড়লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত

সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতে আবারও বিপর্যস্ত ইয়েমেন। দেশটির পশ্চিম উপকূল ও তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্বাহী ইউনিটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ হাজার ৫৮৩টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

দেশের আটটি প্রদেশে এ বাস্তুচ্যুতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দক্ষিণ-প্রান্তের তাইজ ও লাহিয প্রদেশে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু তাইজেই ১৫টি জেলার ১১ হাজার ৫৩৪টি পরিবারের ৮০ হাজার ৭৯২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আর পাশের লাহিয প্রদেশে নয়টি জেলার ৫ হাজার ৪৭২টি পরিবারের ৩৮ হাজার ৩০৪ জন মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়েছেন। এছাড়া এডেনে ১ হাজার ৬২২টি পরিবারের ৭ হাজার ১৬২ জন মানুষের আগমন ঘটেছে, যাদের বেশিরভাগকেই স্থানীয় পরিবারগুলো নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছে।

পরিস্থিতি এখানেই শেষ নয়, আল-হুদাইদাহর হেইস ও আল-খাওখাহ এলাকায় ১ হাজার ৪৭১টি পরিবারের ১০ হাজার ২৯৭ জন এবং আবিয়ানে ১ হাজার ২৭৮টি পরিবারের ৮ হাজার ৯৪৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি হাদরামুতে ১১০টি, আল-মাহরাহতে ৭০টি এবং শাবওয়াতে ২৬টি বাস্তুচ্যুত পরিবারকে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত ‘জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা’ নিয়ে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, সময়মতো সহায়তা না পৌঁছালে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং স্থানীয় আশ্রয়দানকারী মানুষগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

গত জুলাই মাসের শুরু থেকেই ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং তাইজ প্রদেশে নতুন করে সামরিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সাম্প্রতিক এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে মূলত তার চরম অবনতি ঘটল। বিশেষ করে উত্তর ইয়েমেনের তাইজ, মারিব, আল-জাওফ ও মধ্য ইয়েমেনের আল-বায়দা এলাকায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়। চলতি মাসে সংঘাত আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ সময় হুথি বিদ্রোহীরা আল-হুদাইদাহ ও তাইজের বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা দখল করে নেয় এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির মায়ুন দ্বীপ পর্যন্ত নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানী সানা এবং দেশের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা। এরপর থেকেই ইয়েমেন এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট। দশকের পর দশক ধরে চলা দীর্ঘ সংঘাতের ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে ঘটে যাওয়া এ গণ-বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ইয়েমেনকে আরও গভীর এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/