শিরোনাম

ইরানে ঢুকলো মার্কিন বিশেষ বাহিনী

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে ঢুকলো মার্কিন বিশেষ বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান। ফাইল ছবি

ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে ইরানে বিশেষ বাহিনী প্রবেশ করিয়ে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও আরেকজনের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরান দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে—যা চলমান সংঘাতে শত্রুপক্ষের গুলিতে ধ্বংস হওয়া প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটির দুই ক্রু সদস্য প্যারাশুটে নেমে পড়েন, যার ফলে তাদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

যুদ্ধবিমানটির লেজের পাখায় 'ইউরোপে মার্কিন বিমান বাহিনী' লেখা দেখা যায়। ছবি: টেলিগ্রাফ
যুদ্ধবিমানটির লেজের পাখায় 'ইউরোপে মার্কিন বিমান বাহিনী' লেখা দেখা যায়। ছবি: টেলিগ্রাফ

মার্কিন বাহিনী দুটি হেলিকপ্টার ও একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হেলিকপ্টারগুলোকে হালকা অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে দুটি হেলিকপ্টারই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপদে ফিরে যেতে সক্ষম হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় মিলিশিয়ারা ওই নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি তাকে জীবিত ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণার কথাও প্রচার করা হয়েছে।

যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ছবি: টেলিগ্রাফ
যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ছবি: টেলিগ্রাফ

এদিকে একই রাতে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন এ-১০ ওয়ারথগ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিখোঁজ পাইলটের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না।’

এটি যুদ্ধবিমানটির একটি ইজেকশন সিট বলে মনে করা হচ্ছে। ছবি: টেলিগ্রাফ
এটি যুদ্ধবিমানটির একটি ইজেকশন সিট বলে মনে করা হচ্ছে। ছবি: টেলিগ্রাফ

এদিকে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের উত্তরে অবস্থিত শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলা হয়েছে।

ইরান এসব হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ থামাতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও ভেঙে পড়েছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আলোচনায় পক্ষগুলো অচলাবস্থায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৪ দফা প্রস্তাব দিলেও ইরান সেটিকে ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং পাইলট নিখোঁজ থাকার ঘটনা সংঘাতকে আরও জটিল ও তীব্র করে তুলতে পারে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/এমআর/