জাকসু নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত ও নতুন তফসিলের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জাকসু নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত ও নতুন তফসিলের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
দাবি আদায়ে জাবি উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন ২০২৫- এ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে– দাবি করে এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটগ্রহণ চলাকালে অদৃশ্য চাপ, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে যথাসময়ে অবহিত না করার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার ও ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার পদত্যাগের বিষয়টি এসব প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে।

নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংগঠনটি সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানায়। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে– ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা, ডোপ টেস্ট নিয়ে অসঙ্গতি, অমোচনীয় কালির দাগ উঠে যাওয়ার ফলে জাল ভোটের আশঙ্কা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা।

এ ছাড়া, ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালট পেপার ছাপানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণ এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানায় ছাত্র ইউনিয়ন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ভোটগ্রহণ চলা এবং ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনার পরিবর্তে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা ও এর ফলে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল প্রকাশের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়া আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটি প্যানেলের নির্বাচন বর্জনের ঘটনাও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় সেখানে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আগের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া জাকসু নির্বাচনের বাজেট ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের অকালমৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও বলেছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচন যদি অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়মের তদন্ত চলমান থাকার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন তাদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নতুন জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

/এফআর/