
সিটিজেন ডেস্ক


ইরান যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
জাতিসংঘ থেকে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান।
তবে এই হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর ইরান কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন।
এদিকে গুতেরেস বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে কাতার।
কাতারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশপথ আংশিকভাবে আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে আপাতত শুধু উদ্ধারকারী ও জরুরি পণ্যবাহী (কার্গো) ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আরও ফ্লাইট চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চলমান পর্যালোচনার ওপর।
কাতার সরকারের কর্তারা এ সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইরানের হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গতকাল শুক্রবার দেশটি ৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন জনশূন্য এলাকায় পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সূত্র: বিবিসি

তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর সেখানকার টারমার্কে পুড়ে যাওয়া বিমান দেখা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। এর আগে ইসরায়েল নতুন করে আরও হামলার তথ্য দিয়েছিল।
তেহরানের বাসিন্দারা বিবিসি ফার্সিকে বলেছে, সবশেষ রাতটি ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে ভয়াবহ যেখানে প্রতি ঘণ্টায় হামলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া দেশটির সাথে কোনো চুক্তি হবে না। একই সাথে তিনি বলেছেন, তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে তারা চিহ্নিত করেছে। ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে।’ এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের দূত আমির সাইয়েদ ইরাভানি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ১৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার থেকে বাচঁতে আবারও বাংকারে আশ্রয় নিয়েছে ইসরায়েলের লাখ লাখ বাসিন্দা। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এ পর্যন্ত ইরান ইসরায়েলের দিকে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
এ হামলার জেরে সারা রাত লাখ লাখ ইসরায়েলিকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (বাংকারে) অবস্থান করতে হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে ইরান এমন কৌশল নিয়েছে। যাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলিদের দীর্ঘ সময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য করা যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধারণা করছিল হামলার প্রথম সপ্তাহেই ইরান থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ইসরায়েলিদের দাবি, এটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ক্ষেত্রে ইরানের দুর্বল সক্ষমতাকে ফুটিয়ে তুলছে। আর এর কারণ হিসেবে ইসরায়েল তাদের ভাষায় নিজেদের ‘সাফল্য’কে কৃতিত্ব দিচ্ছে। সূত্র: আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আজ রাতে ইরানের ওপর ‘আমাদের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালিত হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন এ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দিচ্ছি।’
এ সময় বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার’ অভিযোগ আনেন। এ প্রসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি হবে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এর পর (নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ) এবং (ইরানের) একজন মহান ও গ্রহণযোগ্য নেতা বা (নেতাদের) বাছাই করা হয়ে গেলে আমরা এবং হয়ত আমাদের চমৎকার, সাহসী মিত্র ও অংশীদাররা নিরন্তর কাজ করে যাব।’
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে ধ্বংস থেকে ফিরিয়ে আনতে, তাদেরকে অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও বড় এবং ভাল করাসহ আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলতে। ইরান একটি দারুণ ভবিষ্যৎ পাবে। ‘মেইক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ (মিগা)!’

গত সপ্তাহব্যাপী ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিনঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খাত অস্থির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
এর মধ্যে ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক দিনে ৮.৫ শতাংশ এবং সপ্তাহের নিরিখে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ ইরান বারবার এই জলপথ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়।

শ্রীলঙ্কা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ থেকে জীবিতদের এবং শ্রীলঙ্কার হেফাজতে থাকা দ্বিতীয় ইরানি জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার না করতে শ্রীলঙ্কার সরকারকে চাপ দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর গ্যাল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের আইআরআইএস ডেনা যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৮০ জন নাবিকের মৃতদেহ এবং ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী। এ ঘটনায় ইরানি নৌবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের তীব্রতা প্রকাশ পেয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার, শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইরানি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহর থেকে ২০৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করতে শুরু করেছে। যা শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক সীমানার বাইরে অর্থনৈতিক অঞ্চলে আটকা পড়েছিল।
এ ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বলেছেন, ক্রুদের উদ্ধার করা তার ‘মানবিক দায়িত্ব’।
আইআরআইএস ডেনায় টর্পেডো হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এ ধরনের হামলা। এটি চলমান ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভৌগোলিক পরিধির স্পষ্ট লক্ষণ। এ ঘটনাকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ‘নীরব মৃত্যু’ বলে উপহাস করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, কলম্বোতে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেইন হাওয়েল শ্রীলঙ্কার সরকারকে জোর দিয়ে বলেছেন, বুশেহর থেকে উদ্ধারকৃত ক্রু বা ডেনা থেকে উদ্ধারকৃত ৩২ জন জীবিতদের ইরানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়।
এতে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত ইরানি ক্রুদের প্রচারণার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয় শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের।
গত ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক অঞ্চলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা থেকে সাহায্যের বার্তা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী ইরানি নাবিকদের উদ্ধার।
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, জেইন হাওয়েল ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে আরও জানিয়েছেন, ক্রুদের ইরানে ফেরত পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।
গত বুধবার, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক উপমন্ত্রী হানসাকা উইজেমুনি রয়টার্সকে বলেন, তেহরান ডেনা জাহাজে নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে কলম্বোর কাছে সাহায্য চেয়েছে। তবে সেজন্য সময়সীমা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
গত মাসে বঙ্গোপসাগরে ভারত কর্তৃক আয়োজিত নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ডেনা এবং ইরানে ফিরে যাওয়ার সময় একটি মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে এটি ডুবে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ডেনায় যখন টর্পেডো আঘাত হানে তখন এটি সশস্ত্র ছিল এবং হামলা চালানোর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও সতর্কতা দেয়নি।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের তারবার্তায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় জাহাজ বুশেহর, সংঘাতের সময়কাল ধরে শ্রীলঙ্কার হেফাজতে থাকবে।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, তারা বুশেহরকে পূর্ব উপকূলের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে এবং এর বেশিরভাগ ক্রুকে কলম্বোর কাছে একটি নৌবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে।