যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরানের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি কূটনৈতিক রূপরেখা পেশ করেছে ইরান। এতে পুরো অঞ্চলে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত নিরসনে বৃহত্তর আলোচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।

এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে।

নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তিতে ইরানের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কূটনীতির পথের জন্য তারা এখনো উন্মুক্ত। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তারা ধরে রেখেছে।

দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনমনীয় ও বেশ কঠোর। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ কতটা সফল হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে জড়িত হামলায় আরব উপদ্বীপের আশপাশে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করছে কাতার।

অন্যদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব মোকাবিলা করছে। তবে এর প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়েছেন। নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের আলোচনাকে তিনি ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির দিকে অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তার সামনে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ রয়েছে।

সূত্র: গলফ নিউজ

/জেএইচ/