যুক্তরাষ্ট্র কি ভারতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, কেন এ অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্র কি ভারতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, কেন এ অভিযোগ
অমিত কুমার মন্ডল

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি এখন উত্তাল। আর এ উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে ডালপালা মেলছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। শাসকদল ও সরকার-ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বিদেশি কিছু শক্তি। এ আলোচনার তীরের অনেকটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।
এসব জল্পনা কতটা সত্যি তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অতীতে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার শাসনব্যবস্থা বদলানোর নজিরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। অতীতে সিআইএ, নানা নামি-বেনামি এনজিও এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে বর্তমান অস্থিরতার পেছনেও তেমনই কোনো ছক রয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি অভিযোগ ও নিরাপত্তা সংস্থার নজর
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের মুখে এখন একই সুর এ আন্দোলনের পেছনে বিদেশি মদত রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, এটি আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীরা বিদেশি শক্তির নির্দেশে রাজপথে নেমেছে।
পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পাকিস্তানসহ বেশ কিছু বিদেশি রাষ্ট্র থেকে সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন বার্তা এবং আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি বিক্ষোভের নেতারা মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না, মার্কিন পরামর্শকরা আন্দোলনকারীদের কোনো পরামর্শ দিয়েছে কিনা, কিংবা কোনো মার্কিন ফাউন্ডেশন থেকে এনজিওর মাধ্যমে টাকা এসেছে কি না- সেসব প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।

তদন্তের আওতায় বিভিন্ন মার্কিন সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর পাশাপাশি ইউএসএআইডি (USAID), ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (NED), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI) এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) মতো সুপরিচিত মার্কিন সংস্থাগুলোর নাম এখন আলোচনায়।
পাশাপাশি শতকোটিপতি সমাজসেবী জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধেও মোদি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং রাজনৈতিক আখ্যান বদলে দেওয়ার জন্য টাকা ঢালার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সুশীল সমাজ, মানবাধিকার গোষ্ঠী ও গণমাধ্যমকে এ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িয়ে দেখা হলেও, এসব দাবির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহু এনজিওর নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও এফসিআরএ সংক্রান্ত জটিলতায় তদন্তের মুখে পড়েছিল এনইডি।
রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি
২০২৫ সালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ওসিসিআরপি-র (OCCRP) মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অর্থায়ন পায়। বিজেপি দাবি করে, সংস্থাটি মোদি ও তার সহযোগীদের লক্ষ্য করে তথ্য তৈরির করছে এবং এটিকে ভারতকে অস্থিতিশীল করার ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে। দলটির অভিযোগের নিশানা থেকে বাদ পড়েননি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইক বেঞ্জ ইউএসএইড ও বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ভারতীয় নির্বাচনে আমেরিকার হস্তক্ষেপের কথা বললেও, ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান। ২০২৫ সালে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড জানান, ভারতে সরকার পতনের কোনো চক্রান্তে মার্কিন গোয়েন্দারা যুক্ত নয়।

পুরোনো ইতিহাস
তবে ভারতীয় রাজনীতিতে আমেরিকার প্রভাব ফেলার চেষ্টা প্রথম নয়। যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও নিজেদের স্বার্থে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল- এমন অভিযোগ বেশ পুরোনো। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘এ ডেঞ্জারাস প্লেস’-এ ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল প্যাট্রিক ময়নিহান লিখেছিলেন, ভারতে কমিউনিস্ট প্রভাব ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুইবার কংগ্রেস দলকে টাকা দিয়েছিল। একবার কেরালায় এবং আরেকবার পশ্চিমবঙ্গে। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইন্দিরা গান্ধীকেও কংগ্রেসের পদে থাকাকালীন অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
আরেক মার্কিন কূটনীতিক এলসওয়ার্থ বাঙ্কারও এ দাবি করেছিলেন। যদিও ইন্দিরা গান্ধী সে সময় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সেগুলোকে বিদ্বেষপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। এছাড়া ১৯৫৯ সালে কেরালায় ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে সিআইএ-র পরোক্ষ ইন্ধন ছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
সূত্র: ওয়িওন

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি এখন উত্তাল। আর এ উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে ডালপালা মেলছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। শাসকদল ও সরকার-ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বিদেশি কিছু শক্তি। এ আলোচনার তীরের অনেকটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।
এসব জল্পনা কতটা সত্যি তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অতীতে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার শাসনব্যবস্থা বদলানোর নজিরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। অতীতে সিআইএ, নানা নামি-বেনামি এনজিও এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে বর্তমান অস্থিরতার পেছনেও তেমনই কোনো ছক রয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি অভিযোগ ও নিরাপত্তা সংস্থার নজর
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের মুখে এখন একই সুর এ আন্দোলনের পেছনে বিদেশি মদত রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, এটি আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীরা বিদেশি শক্তির নির্দেশে রাজপথে নেমেছে।
পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পাকিস্তানসহ বেশ কিছু বিদেশি রাষ্ট্র থেকে সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন বার্তা এবং আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি বিক্ষোভের নেতারা মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না, মার্কিন পরামর্শকরা আন্দোলনকারীদের কোনো পরামর্শ দিয়েছে কিনা, কিংবা কোনো মার্কিন ফাউন্ডেশন থেকে এনজিওর মাধ্যমে টাকা এসেছে কি না- সেসব প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।

তদন্তের আওতায় বিভিন্ন মার্কিন সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর পাশাপাশি ইউএসএআইডি (USAID), ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (NED), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI) এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) মতো সুপরিচিত মার্কিন সংস্থাগুলোর নাম এখন আলোচনায়।
পাশাপাশি শতকোটিপতি সমাজসেবী জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধেও মোদি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং রাজনৈতিক আখ্যান বদলে দেওয়ার জন্য টাকা ঢালার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সুশীল সমাজ, মানবাধিকার গোষ্ঠী ও গণমাধ্যমকে এ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িয়ে দেখা হলেও, এসব দাবির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহু এনজিওর নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও এফসিআরএ সংক্রান্ত জটিলতায় তদন্তের মুখে পড়েছিল এনইডি।
রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি
২০২৫ সালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ওসিসিআরপি-র (OCCRP) মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অর্থায়ন পায়। বিজেপি দাবি করে, সংস্থাটি মোদি ও তার সহযোগীদের লক্ষ্য করে তথ্য তৈরির করছে এবং এটিকে ভারতকে অস্থিতিশীল করার ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে। দলটির অভিযোগের নিশানা থেকে বাদ পড়েননি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইক বেঞ্জ ইউএসএইড ও বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ভারতীয় নির্বাচনে আমেরিকার হস্তক্ষেপের কথা বললেও, ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান। ২০২৫ সালে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড জানান, ভারতে সরকার পতনের কোনো চক্রান্তে মার্কিন গোয়েন্দারা যুক্ত নয়।

পুরোনো ইতিহাস
তবে ভারতীয় রাজনীতিতে আমেরিকার প্রভাব ফেলার চেষ্টা প্রথম নয়। যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও নিজেদের স্বার্থে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল- এমন অভিযোগ বেশ পুরোনো। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘এ ডেঞ্জারাস প্লেস’-এ ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল প্যাট্রিক ময়নিহান লিখেছিলেন, ভারতে কমিউনিস্ট প্রভাব ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুইবার কংগ্রেস দলকে টাকা দিয়েছিল। একবার কেরালায় এবং আরেকবার পশ্চিমবঙ্গে। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইন্দিরা গান্ধীকেও কংগ্রেসের পদে থাকাকালীন অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
আরেক মার্কিন কূটনীতিক এলসওয়ার্থ বাঙ্কারও এ দাবি করেছিলেন। যদিও ইন্দিরা গান্ধী সে সময় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সেগুলোকে বিদ্বেষপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। এছাড়া ১৯৫৯ সালে কেরালায় ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে সিআইএ-র পরোক্ষ ইন্ধন ছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
সূত্র: ওয়িওন

যুক্তরাষ্ট্র কি ভারতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, কেন এ অভিযোগ
অমিত কুমার মন্ডল

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি এখন উত্তাল। আর এ উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে ডালপালা মেলছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। শাসকদল ও সরকার-ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বিদেশি কিছু শক্তি। এ আলোচনার তীরের অনেকটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।
এসব জল্পনা কতটা সত্যি তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অতীতে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার শাসনব্যবস্থা বদলানোর নজিরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। অতীতে সিআইএ, নানা নামি-বেনামি এনজিও এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে বর্তমান অস্থিরতার পেছনেও তেমনই কোনো ছক রয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি অভিযোগ ও নিরাপত্তা সংস্থার নজর
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের মুখে এখন একই সুর এ আন্দোলনের পেছনে বিদেশি মদত রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, এটি আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীরা বিদেশি শক্তির নির্দেশে রাজপথে নেমেছে।
পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পাকিস্তানসহ বেশ কিছু বিদেশি রাষ্ট্র থেকে সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন বার্তা এবং আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি বিক্ষোভের নেতারা মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না, মার্কিন পরামর্শকরা আন্দোলনকারীদের কোনো পরামর্শ দিয়েছে কিনা, কিংবা কোনো মার্কিন ফাউন্ডেশন থেকে এনজিওর মাধ্যমে টাকা এসেছে কি না- সেসব প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।

তদন্তের আওতায় বিভিন্ন মার্কিন সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর পাশাপাশি ইউএসএআইডি (USAID), ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (NED), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI) এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) মতো সুপরিচিত মার্কিন সংস্থাগুলোর নাম এখন আলোচনায়।
পাশাপাশি শতকোটিপতি সমাজসেবী জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধেও মোদি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং রাজনৈতিক আখ্যান বদলে দেওয়ার জন্য টাকা ঢালার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সুশীল সমাজ, মানবাধিকার গোষ্ঠী ও গণমাধ্যমকে এ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িয়ে দেখা হলেও, এসব দাবির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহু এনজিওর নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও এফসিআরএ সংক্রান্ত জটিলতায় তদন্তের মুখে পড়েছিল এনইডি।
রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি
২০২৫ সালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ওসিসিআরপি-র (OCCRP) মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অর্থায়ন পায়। বিজেপি দাবি করে, সংস্থাটি মোদি ও তার সহযোগীদের লক্ষ্য করে তথ্য তৈরির করছে এবং এটিকে ভারতকে অস্থিতিশীল করার ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে। দলটির অভিযোগের নিশানা থেকে বাদ পড়েননি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইক বেঞ্জ ইউএসএইড ও বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ভারতীয় নির্বাচনে আমেরিকার হস্তক্ষেপের কথা বললেও, ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান। ২০২৫ সালে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড জানান, ভারতে সরকার পতনের কোনো চক্রান্তে মার্কিন গোয়েন্দারা যুক্ত নয়।

পুরোনো ইতিহাস
তবে ভারতীয় রাজনীতিতে আমেরিকার প্রভাব ফেলার চেষ্টা প্রথম নয়। যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও নিজেদের স্বার্থে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল- এমন অভিযোগ বেশ পুরোনো। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘এ ডেঞ্জারাস প্লেস’-এ ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল প্যাট্রিক ময়নিহান লিখেছিলেন, ভারতে কমিউনিস্ট প্রভাব ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুইবার কংগ্রেস দলকে টাকা দিয়েছিল। একবার কেরালায় এবং আরেকবার পশ্চিমবঙ্গে। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইন্দিরা গান্ধীকেও কংগ্রেসের পদে থাকাকালীন অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
আরেক মার্কিন কূটনীতিক এলসওয়ার্থ বাঙ্কারও এ দাবি করেছিলেন। যদিও ইন্দিরা গান্ধী সে সময় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সেগুলোকে বিদ্বেষপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। এছাড়া ১৯৫৯ সালে কেরালায় ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে সিআইএ-র পরোক্ষ ইন্ধন ছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
সূত্র: ওয়িওন









