শিরোনাম
রাহুল গান্ধীর দাবি

‘পুলিশ সদস্যরা ফিসফিস করে বলেছেন, এই সরকারকে হটান’

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
‘পুলিশ সদস্যরা ফিসফিস করে বলেছেন, এই সরকারকে হটান’
রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ চলার সময় পুলিশ যখন রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে এক অভূতপূর্ব বার্তা পেয়েছেন তিনি। তার দাবি, হাত-পা ধরে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ কর্মীরা কানে ফিসফিস করে বলেছেন, ‘এই সরকারকে হটান’। বুধবার (২২ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম তুলে ধরতে গিয়ে আগের দিনের এই নাটকীয় ঘটনার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লির ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে হঠাৎই রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন। এতে আচমকা চরম অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পড়ে নিরাপত্তাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করে এলাকা খালি করার পদক্ষেপে যায় দিল্লি পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নাটকীয় কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, নাক থেকে রক্ত ঝরতে থাকা রাহুল গান্ধীকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ বিশৃঙ্খলার বিষয়ে রাহুল জানান, পুলিশ শুধু ওপরের নির্দেশ পালন করছিল, তবে তারা নিজেরাও এ শাসনব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জায়গায় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সন্তানদেরই দেখতে পায়। রাহুল যোগ করেন, রাজস্থান বা হরিয়ানা থেকে আসা উর্দি পরা পুলিশ কর্মীরাও ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই তার কানে ওই বার্তা দিয়েছিলেন।

উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর মঙ্গলবার রাতেই রাহুল গান্ধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার সংসদে প্রতিবাদ হিসেবে হাতে কালো আর্মব্যান্ড পরে যোগ দেন তিনি। আন্দোলনে পুলিশের মার খাওয়া প্রসঙ্গে জাপানি মার্শাল আর্ট আইকিডোতে ব্ল্যাক বেল্ট থাকা রাহুল জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে দু-একটা ঘুষি বা আঘাত খাওয়া তার কাছে খুবই সামান্য বিষয়। জনগণের কষ্টের কথা তুলে ধরতে তিনি এমন আঘাত আরও সহ্য করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএ সরকারের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরে অন্তত ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কারও কোনো শাস্তি হয়নি। এতে দেশের শিক্ষাকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ পরিবারগুলোকে একটি পরীক্ষার পেছনেই সরকারের শিক্ষা বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এ সার্বিক ব্যর্থতার দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানান রাহুল।

/এমএকে/